চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বিভিন্ন রুটে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের সময় ভাড়া বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অনেক রুটে তা আগের অবস্থায় ফেরেনি। কোনো কোনো রুটে আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

হাটহাজারী থেকে চারিয়া-বুড়িপুকুর, সরকারহাট, মুহুরীহাট, মনিয়াপুকুর, কাটিরহাট ও নাজিরহাট রুটে ভাড়া নিয়ে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রাত ১০টার পর সিএনজি অটোরিকশা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। এ সময় অনেক চালক রিজার্ভ ছাড়া যাত্রী পরিবহনে অনাগ্রহ দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরকারহাটগামী যাত্রী রহিম বাদশা বলেন, শহর থেকে বাসস্টেশনে নেমে তিনি প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। তাঁর দাবি, আগে সরকারহাট যেতে ১৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও বর্তমানে ৩০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। ৩০ টাকা দিতে রাজি না হলে গাড়িতে উঠতে নিষেধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চারিয়াগামী যাত্রী জসিম বলেন, আগে চারিয়া যেতে ১০ টাকা ভাড়া দিতেন। বর্তমানে তাঁর কাছে ২০ টাকা দাবি করা হয়েছে। পরে দরদামের মাধ্যমে ওই ভাড়ায় যেতে রাজি হন চালক।

তবে চালকদের দাবি, ভাড়া বাড়ানোর পেছনে গ্যাস সংকট ও অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় অন্যতম কারণ। সিএনজি চালক হানিফ বলেন, গ্যাস সংগ্রহ করতে তাঁদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, “রাত ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ৭টা পর্যন্ত গ্যাস নিতে পারিনি। ভিআইপি নিতে ৩০০ টাকা লাগে। অনেক কষ্ট করে গাড়ি চালাতে হয়।”

চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংগ্রহে দীর্ঘ অপেক্ষা, গ্যাসের অনিয়মিত প্রাপ্যতা এবং গাড়ি পরিচালনার অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব ব্যয় বিবেচনায় বর্তমানে বিভিন্ন রুটে কত ভাড়া নেওয়া যৌক্তিক, তা নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

যাত্রীদের দাবি, চালকদের বাস্তব পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রুটভিত্তিক একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা হোক। নির্ধারিত ভাড়া প্রকাশ্যে জানিয়ে দেওয়া হলে প্রতিদিনের দরদাম ও যাত্রী-চালকের মধ্যে বিরোধ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, হাটহাজারীর বিভিন্ন রুটে সিএনজি ভাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্যাসের সরবরাহ, চালকদের পরিচালন ব্যয় এবং যাত্রীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া সম্ভব।

এ অবস্থায় হাটহাজারী-চারিয়া-বুড়িপুকুর, সরকারহাট, মুহুরীহাট, মনিয়াপুকুর, কাটিরহাট ও নাজিরহাটসহ বিভিন্ন রুটে সিএনজি ভাড়া পুনর্বিবেচনা, নির্ধারিত ভাড়া প্রকাশ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাচাইয়ে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পাশাপাশি রাতের বেলায় যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভাড়া নিয়ে চলমান অসন্তোষের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা যাত্রী ও চালক উভয় পক্ষের।