সার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব—এসব জনগণের বাস্তব সমস্যা। অতীত সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরলেই বর্তমান সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ক্ষমতায় এসে এসব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব বর্তমান সরকারেরই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে জাতির মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি অতীত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যার কথা বলেছেন এবং রাজপথে ‘বিশৃঙ্খলা’ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেছেন।

আমরা জানতে চাই—তিনি কি দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করছেন? যদি করে থাকেন, তাহলে জনগণকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরিবর্তে সমস্যাগুলো সমাধানের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত ছিল।’

তিনি বলেন, সার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব—এসব জনগণের বাস্তব সমস্যা। অতীত সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরলেই বর্তমান সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ক্ষমতায় এসে এসব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব বর্তমান সরকারেরই।

ড. হামিদুর রহমান আজাদ মনে করেন, আমরা মনে করি, এসব জাতীয় সমস্যা কোনো দলের একক সমস্যা নয়। সরকার চাইলে সব রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমন করার

হুমকি দেওয়া কোনো সমাধান নয়। জনগণের দাবি যৌক্তিক হলে তা শুনতে হবে, আর অযৌক্তিক হলে যুক্তি দিয়ে জবাব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—জনগণের দেওয়া গণভোটের ম্যান্ডেট কোনো সরকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি একটি আমানত। সেই ম্যান্ডেটের যথাযথ বাস্তবায়ন করে দেশে সুশাসন, আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলো জনগণের ক্ষোভ ও আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করেছে। সেই পথ শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য সুখকর হয়নি। বর্তমান সরকার যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তাই হুঁশিয়ারি নয়, সমাধানের রোডম্যাপ দিন। দমন নয়, সংলাপের পথ বেছে নিন। বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ নয়, জাতীয় সমস্যার সমাধানে সবাইকে সম্পৃক্ত করুন। গণভোটের গণরায় ও জনগণের সমস্যার সমাধানই সরকারের সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। ।