• পথে পথে জনতার বাধা ভাঙা জোয়ার

মিয়া হোসেন, লং মার্চ বহর থেকে

শাপলা চত্বর থেকে লালদিঘি ময়দান পর্যন্ত যেন ছিল অন্যরকম এক বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে ভিজেছে, রোদে শুকিয়েছে ছোট থেকে বুড়ো সকল বয়সি মানুষ। তাদের প্রত্যাশা একটাই তারা একটি শান্তিময় বাংলাদেশ দেখতে চায়। যেখানে থাকবে না কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ। থাকবে না কোনো অন্যায় অবিচার। সকল সমস্যার সমাধান করে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। আর এজন্য গণভোটে দেয়া জনগণের রায় বাস্তবায়ান করার জন্য আন্দোলনে নেমেছে তারা। পথে পথে ছোট ছোট পথসভা বড় বড় সমাবেশে পরিণত হয়েছে। তারা সরকারকে জানান দিয়েছে, আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারকে হটিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য দাবি না মানলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন করতে বাধ্য হবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

গতকাল শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শাপলা চত্বর ও লালদিঘী মাঠ দু’টোই ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। ঢাকা থেকে গাড়ী বহর রওয়ানা হওয়ার পর পথে পথে আরো বহু গাড়ী বহরে যুক্ত হয়েছে। তবে বহরে শৃংখলা ছিল চোখে পড়ার মতো। রাস্তায় কোন ধরনের ঝামেলা ও বড় ধরনের কোন যানজটে পড়তে হয়নি। লংমাচের্র পথে পথে জড়ো হয়েছে লাখো লাখো মানুষ। তারা রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চের গাড়ী বহরকে স্বাগত জানিয়েছে। আর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য বৃষ্টি ও রোদ উপেক্ষা করে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে ছিল। সেই সাথে হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লে কার্ড, ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শন করেছে। চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে পথে পথসভাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সকল শ্রেণি পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছে। সমাবেশগুলো কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। সবশেষে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠ রাতের বেলায় ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশ যেন অন্যরকম আবহ বিরাজ করেছে। সমাবেশগুলো থেকে জনগণের সমস্যা সমাধান করার জন্য বক্তব্য দেয়া হয়। এ সময় মানুষেরা ‘গ্যাস দে, বিদ্যু দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’- স্লোগান দিয়েছে।

লং মার্চের দাবিগুলো হলো, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি রোধ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবি। সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে শুরু হয়ে রাত ৯টার পর চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লং মার্চ কর্মসূিচ শেষ হয়। তবে এ লং মার্চই শেষ নয়। সরকার দাবি না মানলে ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরে লংমার্চ এবং সবশেষে সারা দেশ থেকে ঢাকা লং মার্চ করে মহা সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলে সমাবেশগুলোতে জানানো হয়েছে। ঢাকার শাপলা চত্বর সমাবেশ করে শুরু হয়েছে। তারপর চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়া, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল, মীরের সরাইসহ বিভিন্ন স্থানে পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবশেষে চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লং মার্চের সমাপ্তি হয়।

সমাবেশগুলোতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সেই সাথে এনসিপিসহ এগারদলীয় ঐক্যের লোকজন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধান অতিথি বলেছেন, নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। পুরনো ফ্যাসিবাদ বিদায় করতে সাড়ে ১৫ বছর লেগেছে। কিন্তু নতুন ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হলে তা বিদায় করতে সাড়ে ১৫ বছর লাগবে না। কারণ তাদেরকে আমরা চিনি। তারা সাড়ে ১৫ বছর সরকারের অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করেছে। তিনি অবিলম্বের ছয় দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।