মিয়া হোসেন, নূরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম থেকে:

এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখন গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, আবার বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আসতেছে, গ্যাস দিবে না কিন্তু গ্যাসের বিল জমা দিতে হচ্ছে! আমরা তেল পাই না, জ্বালানি পাই না—চতুর্দিকে হাহাকার! আর সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস, রাহাজানি, মারামারি—দলীয় আনুকূল্যে, প্রশ্রয়ে সরকারি দলের লোকেরা এখন সন্ত্রাসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চুরি-চামারিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে! আগের ফ্যাসিস্ট সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকার একই রাস্তা ধরে হেঁটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অবিলম্বে জনগনের দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে তিনি জানান।

গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে এগার দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল অব. অলি আহমেদ।

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, লং মার্চে আমরা শত শত গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পর রাস্তায় রাস্তায় আরও শত শত গাড়ি এই বহরে যুক্ত হয়েছে। আমাদের মাথা এখানে, কিন্তু তারা কোথায়—এটা আমরা বলতে পারবো না। শেষ পর্যায়ে আলহামদুলিল্লাহ, লালদীঘির এই ময়দানে এসে আমরা হাজির হতে পেরেছি এজন্য আল্লাহর শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ।

তিনি বলেন, ছয় দফার প্রথম দফাটাই আমরা শুরু করেছি—ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ আপনারা দু'টা ভোট দিয়েছিলেন। একটা জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্য, আরেকটা বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই ব্যক্তিকে দুটি ভোট দিয়েছেন। আফসোস! নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি দল এবং আমরা সকলেই বলেছি যে আপনারা গণভোটে 'হ্যাঁ' বলুন। যদি 'হ্যাঁ' বিজয়ী হয়, তাহলে গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। একথা বিএনপি-ও বলেছে, আমরাও বলেছি। ৬ মাস চলে গেল, বিএনপি কি তাদের কথা রেখেছে? জাতির সাথে তারা কি করেছে? সংকট তারাই তৈরি করেছেন। ওই দিন থেকেই বাংলাদেশের মানুষ বুক বেঁধে, আশায় বুক বেঁধেছিল যে এবার একটা পরিবর্তন আসবে, আর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না। এদেশের মানুষকে কোর্ট-কাছারিতে গেলে, আদালতে গেলে আর শোষণের, বঞ্চনার শিকার হতে হবে না; ন্যায়বিচার আমরা পাবো। আমাদের সন্তানেরা ভালো শিক্ষা পাবে, তারপরে হাতে ভালো কাজ পাবে। তারা দেশ গড়বে। দেশ থেকে চাঁদাবাজি, ঘুষখোরি এবং দুর্নীতি নির্মূল হবে—তার একটাও হয় নাই। তারা তখন বলেছেন, অনির্বাচিত সরকার যত তাড়াতাড়ি বিদায় নিবে এদেশের তত মঙ্গল হবে। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই—অনির্বাচিত সরকার আমাদেরকে জান্নাতে পাঠায় নাই, এটা ঠিক। কিন্তু অনির্বাচিত সরকারের সময় আপনারা যেমন ছিলেন, এখন কি সেই সুবিধাগুলো পাচ্ছেন? কি হলো? দেশ তো দেশের জায়গায়ই আছে, আপনারা এসে ক্ষমতায় চেয়ারে বসলেন, তো এখন উল্টা হচ্ছে কেন?

তিনি বলেন, এখন গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, আবার বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আসতেছে, গ্যাস দিবে না কিন্তু গ্যাসের বিল জমা দিতে হচ্ছে! আমরা তেল পাই না, জ্বালানি পাই না—চতুর্দিকে হাহাকার! আর সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস, রাহাজানি, মারামারি—দলীয় আনুকূল্যে, প্রশ্রয়ে সরকারি দলের লোকেরা এখন সন্ত্রাসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চুরি-চামারিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে! এই মাত্র চার দিন আগে বোধহয় আপনারা দেখেছেন, ঢাকা বিমানবন্দরে একজন প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই করেছে তিনটা ছিনতাইকারী মিলে। যখন ছিনতাই করে তখন বলছে যে আমরা 'আওয়ামী লীগের লোক', দিয়ে দাও নাইলে শেষ করে দেব। ধরা পড়ার পরে এখন দেখা যায় সবগুলো 'বিএনপির লোক'। এরা গুপ্ত! এদেরই বলে 'গুপ্ত'। যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে—সেই হচ্ছে সবচাইতে বড় গুপ্ত!

তিনি আরো বলেন, আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, তখন বিভিন্ন জায়গায় জ্বর দেখা দিয়েছে! থার্মোমিটার চালানো লাগবে এখন! আজকে বোধহয় কিছু রিয়্যাকশন আপনারা শুনতে পেয়েছেন। আমরা পরিষ্কার একটা কথা বলি—আমাদের এই আন্দোলন ঈদের পরের আন্দোলন নয়। এই আন্দোলন জনগণের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন। আর আমরা এমন জায়গাকে নির্বাচিত করে নিয়েছি, যেই জায়গাটা আন্দোলন-সংগ্রাম-স্বাধীনতার সূতিকাগার। বীর চট্টলা থেকেই আন্দোলন আজকে শুরু হলো, আলহামদুলিল্লাহ। আমার বন্ধুরা বলেছেন, আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে বিদায় দেওয়ার জন্য এই আন্দোলন শুরু করি নাই। কেউ যদি বিদায় নেওয়ার আমল করতে থাকে, তো আমরা কি তাদেরকে ইয়াসীন সূরা পড়ে পানি পড়া খাওয়াবো? সেই পথেই সরকার হাঁটছে, আমাদের কিছু করার নাই। আগের ফ্যাসিস্ট সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকার একই রাস্তা ধরে হেঁটেছে। চট্টগ্রাম তার আরেকটা বাস্তব প্রমাণ।

তিনি চট্টগ্রামের মেয়র সর্ম্পকে বলেন, এখানে একজন মেয়র আছেন, আছেন না? উনার কি মেয়াদ এখনো আছে? তো উনাকে কি বলবো আমরা? মেয়াদ উত্তীর্ণ বলবো, তাই না? এখন শুনি যে উনি যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবেন! আচ্ছা বলেন, এর নাম সুশাসন না এর নাম ফ্যাসিবাদ? আপনি আসেন আবার নির্বাচিত হয়ে আসেন। জনগণের ভোটে এসে সম্মানের সাথে আপনি নেতৃত্ব দেন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু ভোটে যদি জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করেন, তাও আপনাকে মেনে নিতে হবে। এই তো একটা তাজা উদাহরণ দিলাম আপনাদের সামনে। এটা কি ফ্যাসিবাদ নয়? তারা ওয়াদা করেছিলেন জাতির সামনে নির্বাচনী ইশতেহারে এবং তাদের সংস্কারের ৩১ দফাতে, যে সমাজের সকল স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই শুধু দেশ চালাবে। এখন জায়গায় জায়গায় তারা যে প্রশাসক বসালেন, তারা কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি?

তিনি একটি গল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা আমাদের সরকারকে দেখতে পাচ্ছি ভাটির কথা বলে জনগণকে এখন উজানের দিকে নিক্ষেপ করে দিচ্ছে। সবগুলা উলটাপালটা কাজ করছে। আমাদের আজকের এই লংমার্চ সরকারকে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বাকি লংমার্চগুলা আর এমন হবে না। এতগুলা মানুষ মারা গেল, তাদের দলেরও প্রচুর লোক মারা গেছে, গুম হয়েছে, আয়নাঘরে বন্দি হয়েছে—এই মানুষগুলোর রক্ত আর জীবনের প্রতি আমাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? আফসোস! ক্ষমতায় বসেছেন ৬ মাস, বলেন যে "আমাদের সরকারটা শিশু সরকার।" জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয় নাই। ২৫ বছরের আগে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারে না। তো উনারা কি ২৫ বছরের শিশু নাকি? প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আপনারা ভোট দিয়েছেন, ওয়াদা করেছেন, কথা দিয়েছেন—এখন তার সবকিছু আপনারা লঙ্ঘন করছেন। আমরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছি—আপনারা উলটাপালটা করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে, এটা হবে না। এখন পর্যন্ত আঙুল আমাদের সোজা, প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরা তো এই দাবি নিয়ে রাজপথে আসতে চাই নাই! আমরা তো চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে এবং সংসদের ভিতরেই তার ফায়সালা হবে। আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষকে আপনারা অপমান করেছেন। আপনারা তাদের সাথে দেওয়া কথার সাথে গাদ্দারি করেছেন! প্রতারণা করেছেন! বিরোধী দল জনগণের সাথে প্রতারণা করবে না ইনশাআল্লাহ। আমাদেরকে বহু টোপ দেওয়া হয়েছে, লোভ দেওয়া হয়েছে—এইটা করবো, ওইটা করবো, আসেন। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, কোনো লোভ-টোপের প্রতি আমরা চোখ খুলেও তাকাবো না। জনগণের ৭০ ভাগ জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। এবং আমরা আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এর আগে আমরা বিরতি দিবো না, আমরা থামবো না। এ লড়াই আমাদের চলবে এবং বাংলাদেশও ইনশাআল্লাহ বদলাবে।

তিনি উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, বাংলাদেশ বদলানোর জন্য আপনারা কি তৈরি আছেন? তৈরি আছেন? শিওর? ইনশাআল্লাহ! তাইলে প্রস্তুত থাকুন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক ইনশাআল্লাহ আসবে। তবে এর সাথে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের যখন প্রয়োজন হবে, ডাক তখনই আসবে ইনশাআল্লাহ। এবং আমরা কনফিডেন্ট, আমরা আশাবাদী—এই লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে, অপরাধীরা হেরে যাবে, চাঁদাবাজরা হেরে যাবে, দুর্নীতিবাজরা হেরে যাবে, লুণ্ঠনকারীরা হেরে যাবে, যারা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে তারা হেরে যাবে।

তিনি আরো বলেন, আমি শুধু জানতে চাই—আপনারা শাপলা হত্যা কাণ্ডের বিচার চান? সাড়ে ১৫ বছর যত হত্যাকাণ্ড, গুম হয়েছে বিচার চান? আপনারা ২৪ এর আন্দোলনের যারা বীর শহীদ, তাদের খুনিদের বিচার চান? তাদেরকে যারা গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে, তাদের সেই খুনিদের আপনারা বিচার চান? বিডিআরের পিলখানায় ৫৭ জন সেনা অফিসার যাদেরকে খুন করা হয়েছে, সেই খুনিদের আপনারা বিচার চান? যারা আয়নাঘর তৈরি করেছিল তাদের বিচার চান? জল্লাদদের আপনারা বিচার চান? আমরা কথা দিচ্ছি সেই বিচার আমরা আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। আর এই সরকার যদি এই বিচার না করে, তাহলে জনগণের সরকার কায়েমের মাধ্যমে সেই বিচার আমরা তুলে আনবো ইনশাআল্লাহ।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া সমস্যার সমাধান যদি আপনি করতে না পারেন, তবে সেটি প্রথমে সবার আগে জনগণের কাছে স্বীকার করুন। স্বীকার করুন যে, এই সমস্যার সমাধান আপনার একার পক্ষে সম্ভব নয়। স্বীকার করুন যে, আপনার কাছে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোনো সঠিক পরিকল্পনা নেই। অবিলম্বে বিরোধী দলের সাথে আলোচনায় বসুন; বিরোধী দল সমর্থন না দিলে এই দেশ আপনার পক্ষে একা চালানো সম্ভব নয়- এই বাস্তবতা মেনে নিন।

তিনি বলেন, আমরা পতিত স্বৈরাচারকে ফিরে আসার কোনো পথ করে দিচ্ছি না, বরং আপনারাই সেই পথ করে দিচ্ছেন। কারণ জনগণকে আপনারা সমস্যার সমাধান দিতে পারছেন না এবং তাদের হক আপনারা আদায় করতে পারছেন না। এর ফলে জনগণ বিকল্প খুঁজছে এবং সেই বিকল্প শক্তি কারা, তা আজকের এই লংমার্চে বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে। আমরা যেমন পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আছি এবং পতিত স্বৈরাচার কোনোভাবেই দেশে ফেরত আসতে পারবে না, একইভাবে নতুন কোনো রাস্তা আমরা এই বাংলাদেশে হতে দেব না।

সভাপতির বক্তব্যে ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, আমরা নিজেদের স্বার্থে নয়, দেশের মানুষের স্বার্থে রাজপথে এসেছি। আমরা একটি সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসনের বাংলাদেশ গড়তে চাই, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে ১১ দলীয় জোট ছাড়া অন্য কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে, ব্যাংকে কোনো টাকা নেই এবং প্রতিদিন নতুন নোট ছেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে উনারা ছয় মাসের মধ্যে এক লক্ষ মানুষকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর উল্টো এক লক্ষ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ক্ষমতার মসনদে বসার পর বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে গাদ্দারি ও বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। তারা দেশের সাথে, ইতিহাসের সাথে, দেড় সহস্র শহীদের রক্তের সাথে গাদ্দারি করেছে। এখন মহান সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপির মুখপাত্রের মুখে শুনতে হয় যে তারা গণভোট মন থেকে বা আন্তরিকভাবে সংস্কার করার ঐক্যমত পোষণ করেনি। বরং শুধুমাত্র নির্বাচন আদায় করাই ছিল বিএনপির আসল উদ্দেশ্য।।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চট্টগ্রামের এক নেতা বলেছিলেন নাকি লংমার্চের ব্যাপারে ছাড় দেয়া হবে না। পথে পথে যে জনসমুদ্র দেখেছি তাতে দেখেছি জনগণ আপনাদের ছাড় দেবে না। অবিলম্বে জুলাই সনদ মেনে জনদাবি পূরণ করতে হবে।

মাগরিবের পর থেকে শুরু হয় সমাবেশের মূলপর্ব। এ সময় বক্তব্য রাখেন এনসিপির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ কে এম হামিদুর রহমান আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন আহমদ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির মুখপাত্র মাওলানা নাজমুল ইসলাম তালুকদার, দীর্ঘদিন গুমের শিকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম।

আসরের পর থেকে মাগরিবের আগে পর্যন্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য জাফর সাদেক, এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, জাগপার চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আলী, এলডিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন আলম, এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক এডভোকেট গোলাম ফারুক, এলডিপির চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ সভাপতি এডভোকেট আবদুল মোতালেব ও খেলাফত মজলিসের নেতা আতিক বিন ওসমান।

সমাপনী সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, সেগুফতা বুশরা মিশমা, জামায়াত নেতা ইয়াছিন আরাফাত, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াত নেতা মোবারক হোসেন, অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী প্রমুখ।

১১ দলীয় ঐক্যর দাবিগুলো হলো- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। এর আগে সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ শুরু হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা, সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচির পর লংমার্চটি চট্টগ্রামের এসে পৌঁছায়।

এই কর্মসূচিতে বেশ কয়েকটি পথসভা হয়। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে। সর্বশেষ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী জনসভার মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হয়।

গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লং মার্চ’ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের শীর্ষ নেতা, জামায়াতে ইসলামীর ডা. আমির শফিকুর রহমান।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে (রেলপথে) লং মার্চ শেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।