সংসদে সরকার আস্থাহীনতার পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এজন্য ওয়াকআউট করেছেন বলে জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বের হয়ে সাংবাদিকদের সাথে তিনি এই অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জানলামই না কি সংশোধনী আনা হয়েছে। এখানে একটা আইন তৈরি হচ্ছে জাতির জন্য। আইনটা যখন কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে ছিল, তখন তারা সময়ে স্বল্পতা দেখিয়েছে। এরপর সকাল বিকাল সংসদ বসালো। এগুলো আমরা মেনে নিয়েছি। কনসেনসাসেও ঠিক ছিল। মন্ত্রণালয় যেখানে তদারকি করার কথা, কাজেই মন্ত্রী না থাকলে এটা হবেই না। পরে তারা খোলামেলা বলেই দিলো- যদি এখানে সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণ না থাকে তাহলে চলবে কি করে ? এমনকি আমাদের বুঝ দেওয়ার জন্য এটাও বলে দিলো আজকে আপনারা বিরোধী পক্ষে বসেছেন, আগামিকাল তো আপনারা সরকারি দলেও আসতে পারেন। তখনতো আপনারাও একই কাজ করবেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন আমরা এখানে সুবিধা নেওয়ার জন্য আসিনি। তিনি বলেন, আমরা এখানে সুবিধা নেওয়ার জন্য আসিনি। এসেছি জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য।
আমীরে জামায়াত অভিযোগ করেন, আমাদের কোন আপত্তি স্পিকার শুনলেন না। আমাদের মিনিমাম একদিন আগে সমস্ত ডকুমেন্ট দেওয়া উচিত ছিল। সেটাও দেওয়া হয়নি। আমরা আসনে বসার পর একের পর এক বস্তা দেওয়া হলো। আমরা দেখলাম না শুনলাম না। জানলাম না সেখানে আমরা রায় দেই কি করে ? এরপরও যেহেতু সরকারি দল বিরোধী দল মিলে বিশেষ কমিটি হয়েছিল এবং যেসব বিষয়ে একমত হয়েছে, আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছি। শেষ মুহূর্তে এসে সরকারি দল এই আস্তাটুকুও শেষ করে দিলো। তারা যুক্তি দেখালেন মন্ত্রী ছাড়া সকল সদস্য বেসরকারি। তাহলে আপনি সংস্কৃতি মন্ত্রী এটা গ্রহণ করলেন কেন ?
আমরা যখন তাকে ধরলাম তখন তিনি বললেন আমিও জানতাম না। এভাবে একটা গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট চলতে পারে না। এরপর স্পিকারের কাছে স্পষ্ট জানতে চাইলাম- তারা আমাদের জানালেন এখন এভাবে পাস হয়ে যাক। পরবর্তীতে আলোচনা করা যাবে। পাস হওয়ার আগেও ওয়াদা রক্ষা করতে পারলেন না। তাহলে আগামিতে আমাদের আস্থা রাখতে বলেন। তারা আমাদের ছোট শিশু মনে করে।
আমরা জানতে চাইলাম দুদকের বিল আসবে কি না, পুলিশ সংস্কার বিল আসবে কি না, গুম কমিশনের বিল আসবে কি-না, পিএসসির বিল আসবে কি-না। এসবের সাথে প্রত্যেকটি নাগরিকের ভাগ্য জড়িত। নিরাপত্তা জড়িত। এগুলো দিয়ে অতীতে ফ্যাসিজম কায়েম করা হয়েছে। অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যেগুলো দিয়ে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করা যায় সেগুলো তারা রেখে দিয়েছে। এভাবে তারা আস্থাহীনতার পরিবেশ তৈরি করেছে। আমরা এসবে নিন্দা করি।
তিনি উল্লেখ করেন এই পার্লামেন্ট আমরা মেনে নিয়েছি, এই পার্লামেন্ট নিয়ে অনেক কথা আছে। নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা আছে। নির্বাচনের পক্ষে মিনিমান দুজন রাজসাক্ষী পাওয়া গেছে। একজন মন্ত্রী বলেছেন প্রফেসর ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ট্রফি দিয়ে এসেছে। ট্রফি যদি সেখানেই দিয়ে থাকে তাহলে কিসের নির্বাচন ? তাহলেতো পর্দার আড়ালে জাতির সাথে ব্ল্যাকমেইলিং করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে আমরা এক চুল পরিমানও ছাড় দিবো না। আমরা সংসদের কাছে বিচার পাইনি। ইনশাআল্লাহ জনগণের কাছে পাবো। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে দাবি আদায় করে ছাড়বো।