স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চ সফল করার লক্ষ্যে গাজীপুর জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিশেষ দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় নগরীর সোনারতরী কমিউনিটি সেন্টারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুহাম্মদ ফারকের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রব ও গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমীর ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, 'সকল সাধারণ মানুষের জন্য একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা থেকেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৩৩টি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংস্কারের বিষয়ে একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে, যা জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ হিসেবে সামনে এসেছে। আমরা সেই সনদে স্বাক্ষর করেছি এবং এর বাস্তবায়নে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে আমরা গণরায় হিসেবে দেখি। সেই গণরায় এবং জুলাই জাতীয় সনদ অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতেই আমরা রাজপথে এসেছি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এসব বিচার বিলম্বিত হলে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব বিষয়ে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ঢাকা-রংপুর লং মার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লং মার্চ শুরু হবে। গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা অতিক্রম করে রংপুরে গিয়ে এ কর্মসূচি শেষ হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এ আন্দোলন সফল করা হবে।’

গাজীপুরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গাজীপুর ঐতিহাসিকভাবেই আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জাতির এই সংকটময় সময়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের বিপুলসংখ্যক মানুষ লং মার্চে অংশ নেবেন-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও রাহাজানি থাকবে না। একজন ব্যক্তির হাতে অসীম ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে কী পরিণতি হতে পারে, গত সাড়ে ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা তা দেখিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে, সে জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণরায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ আমাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে ইনশাআল্লাহ। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা একটি মানবিক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সফল করতে দায়িত্বশীলদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমীর ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার বিচার এখন বিচারহীনতার দিকে যাচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের বিচারসহ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।’

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মোঃ খায়রুল হাসান, মুহাম্মদ হোসেন আলী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল হাকিম, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শফি উদ্দিন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি আজহারুল ইসলাম মোল্লা, জেলা সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মোস্তাফিজুর রহমানসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলের লং মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।