আসন্ন জাতীয় বাজেট যেন কোনোভাবেই দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার না হয়, সে জন্য সরকারকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ রবিবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর পল্টনের ইকোনোমিকস রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) অডিটরিয়ামে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

উপস্থিত অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের একাংশ
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিরোধী দল কেবল সংসদে কথা বলে চলে আসবে বিষয়টি তা নয়। দেশের উন্নয়নে সরকার ও বিরোধীদলকে সমান ভূমিকা রাখতে হয়। জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে নীতিগত ও আদর্শিক দায়িত্ব পালনে বরাবরই অটল। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামী অতীতে যেভাবে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে, আগামীতেও তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাজেটের আয়তন বাড়লেও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি, জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। সেই বাজেট ক্রমেই বাড়তে বাড়তে আসন্ন বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাজেটের আয়তন বাড়লেও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং কখনো কখনো দেখা গেছে বাজেট ছিল লুটপাটের হাতিয়ার। আসন্ন বাজেট যাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার হতে না পারে এজন্য তিনি সরকারকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের পরিচালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়্যারেসুল করিম।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং অর্থপাচার বন্ধে সরকারকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তিনি বলেন, তেলা মাথায় তেল দেওয়া বাজেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেট হতে হবে সর্বজনীন। স্বাধীনতা পরবর্তী যতগুলো বাজেট হয়েছে সবগুলো ছিল ঋণ নির্ভর বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঋণ নির্ভর বাজেটে অর্থনীতির গতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাজেট চায়, যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকবে। ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে অর্থনীতির চাকা সচল করতে হবে।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ট্রেডিশনাল বাজেট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বাজেট তৈরির প্রক্রিয়া হচ্ছে নতুন সরকার কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ বাড়াবে। কিন্তু যারা বাজেট তৈরি করেন, তারা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেন না। বাজেট তৈরিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণও অনেক সময় অনুপস্থিতি দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উদ্যোগে ট্রেডিশনাল পদ্ধতির বাজেট তৈরি থেকে বেরিয়ে এসে সর্বজনীন বাজেট তৈরি করতে হবে। বাজেট তৈরির লক্ষ্য হতে হবে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ব্যতিত আমাদের উন্নত দেশের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দুর্নীতি মুক্ত হতে না পারলে বাজেটের আয়তন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতির আয়তনও বৃদ্ধি পাবে। নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চিন্তাভাবনা এড়িয়ে গিয়ে বৈদেশিক ঋণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে বাজেট তৈরি হলে অর্থনীতিতে গতি আসবে না। তাই দেশীয় সম্পদের অনুসন্ধান ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি, এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি এমপি, সাবেক সিনিয়র সচিব খ. ম খবিরুল ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ডেইলি স্টারের রাকায়েত উল্লাহ মৃধা, সিপিডি’র পরিচালক (অতিরিক্ত গবেষণা) তৌহিদুল ইসলাম খান, সাংবাদিক লুৎফর কবির সাদী, এসএ টিভির নিউজ এডিটর সালাহউদ্দিন বাবলু প্রমুখ।