স্টাফ রিপোর্টার
মেধা, তারুণ্য ও উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে একটি কল্যাণমুখী, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মেধাবী, সাহসী ও স্বপ্নবান তরুণরাই এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার লাভ লীন কনভেনশন হলে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজিত ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার দ্বিতীয় পর্বের এ+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সফলতার জন্য অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই। জীবনের লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কোনো প্রতিকূলতা কিংবা অন্যের সাফল্য দেখে হতাশ হওয়া যাবে না। নিজের ওপর আস্থা রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
ক্যারিয়ারে একাধিক পথ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো একটি জায়গায় সুযোগ না পেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নতুন করে নিজেকে তৈরি করতে হবে। জীবনের যে পর্যায়ে যে সুযোগ পাওয়া যায়, তা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
তিনি আরও বলেন, মানুষের পরিশ্রম, সততা ও নেক আমলের প্রতিদান দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে। তাই সাফল্যের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও আল্লাহভীতির চর্চা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মেধা ও যোগ্যতাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জীবনে সফল হওয়ার পর কেউ অহংকারী হয়ে ওঠে, আবার কেউ সফল হয়ে আরও বেশি বিনয়ী হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনে যত বড়ই হও না কেন, সাফল্য যেন কখনো অহংকারের কারণ না হয়। যত বড় হবে, তত বেশি বিনয়ী হতে হবে এবং বাবা-মা, শিক্ষক ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব ভুলে যাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, সামনে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ দীর্ঘ পথচলায় আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। ‘আমি পারব, আমরা পারব’Ñএই বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে পরিশ্রম করলে সফলতা অর্জন সম্ভব। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, কোরআন-হাদিসের শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সায়েম। শাখা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মায়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিলসহ মহানগর শাখার নেতারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।
গাজীপুরে ছাত্রশিবিরের এ+ সংবর্ধনা
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও এ+ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাতে গতকাল বৃহস্পতিবার মহানগরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘এ+ সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। গাজীপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইউবী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তুরস্কের তোকাত গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জি.এস.) এস এম ফরহাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জিপিএ-৫ বা এ+ অর্জন জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়,বরং এটি জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, মেধা তখনই সার্থক হবে, যখন তা দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগবে। আগামী দিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের যোগ্য নেতৃত্বের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠন ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধান আলোচক সালাহউদ্দিন আইউবী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ+ অর্জন শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে শিক্ষাজীবনে আরও পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রচলিত শিক্ষার গ-ির বাইরে গিয়ে সৃজনশীলতা, জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় কৃতি শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি ড. হাফিজুর রহমান শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে মেধার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এস এম ফরহাদ শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কৃতিত্ব শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান ও দক্ষতাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ ও এ+ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহারসামগ্রী তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। সম্মাননা গ্রহণের সময় কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও এ আয়োজনকে তাদের সন্তানদের সাফল্যের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে অনুপ্রেরণার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখেন।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি তাদের মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে ‘এ+ সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।