সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলের ঘোষিত তালিকায় স্থান পাওয়া নেত্রীরা হলেন, ১। সেলিমা রহমান, ২। শিরিন সুলতানা, ৩। রাশেদা বেগম হিরা, ৪। রেহানা আক্তার রানু, ৫। নেওয়াজ হালিমা আরলী, ৬। মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, ৭। বিলকিস ইসলাম, ৮। শাকিলা ফারজানা, ৯। হেলেন জেরিন খান, ১০। নিলোফার চৌধুরী মনি, ১১। নিপুন রায় চৌধুরী, ১২। জেবা আমিন খান, ১৩। মাহমুদা হাবিবা, ১৪। সাবিরা সুলতানা, ১৫। সানসিলা জেবরিন, ১৬। সানজিদা ইসলাম তুলি, ১৭। সুলতানা আহমেদ, ১৮। ফাহমিদা হক, ১৯। আন্না মিঞ্জ, ২০। সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর, ২১। শামীম আরা বেগম স্বপ্না, ২২। শাম্মী আক্তার, ২৩। ফেরদৌসী আহমেদ, ২৪। বিথীকা বিনতে হুসাইন, ২৫। সুরাইয়া জেরিন, ২৬। মানছুরা আক্তার, ২৭। জহরত আদিব চৌধুরী, ২৮। মমতাজ আলম, ২৯। ফাহিমা নাসরিন, ৩০। আরিফা সুলতানা, ৩১। সানজিদা ইয়াসমিন,৩২। শওকত আর আক্তার, ৩৩। মাধবী মারমা, ৩৪। সেলিনা সুলতানা, ৩৫।রেজেকা সুলতানা, ৩৬। নাদিয়া পাঠান পাপন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। যেখানে মনোনীতদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর। তিনি বিএনপির ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকার ২০ নম্বর অবস্থানে রয়েছেন। একই তালিকায় নাম রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাডভোকেট মাধবী মারমারও। তিনি তালিকার ৩৪ নম্বর অবস্থানে রয়েছেন। জানা যায়, মাধবী মারমা ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের আমলে দলীয় এপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৫ সালে তিনি নোটারি পাবলিক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
দলের ঘোষিত তালিকায় যেমন এসেছে একাধিক নতুন মুখ ও চমক, তেমনি আলোচনায় থাকা বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেত্রী এবং পরিচিত ব্যক্তিত্ব শেষ পর্যন্ত জায়গা পাননি। চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা না পাওয়া উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী,বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ, কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন, ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক।
রাজনৈতিক মহলে তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি দলে যোগ দেওয়া ও আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের বাদ পড়া তালিকাটিকে আরও ‘চমকপ্রদ’ করে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
গত শুক্রবার সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু করে বিএনপি। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। শনিবারও বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পাঁচ বিভাগের ৫৪৫ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেয় দলটির মনোনয়ন বোর্ড। এতে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের ও বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে মনোনয়ন পেতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। গত ৮ এপ্রিল সকালে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাই নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। এরপর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। ইসি বলছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে।