স্টাফ রিপোর্টার

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ ও বিভিন্ন কন্টেন্ট প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমগুলো অথচ হিন্দু তরুণীকে এক প্রতিমন্ত্রীর ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল হওয়া ঐ মিডিয়াগুলো নীরব থেকেছে। বেঙ্গল লেন্স, দ্যা ডিসেন্ট-এর সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশিরের ফেইসবুক পোস্ট, বিভিন্ন ডিজিটাল অনুসন্ধানী সাইট এবং বিভিন্ন এআই টুলসের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে এ সংক্রান্ত অন্তত শতাধিক সংবাদ ও কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো এমন পক্ষপাতদুষ্ট ও দ্বিমুখী নীতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নীতিগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রশ্নে প্রথম সারির এই সংবাদ মাধ্যমগুুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।

সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসাইন আজাদের সঙ্গে এক হিন্দু তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। হিন্দু তরুণীর সাথে প্রতিমন্ত্রীর ভিডিও ফাঁসের ঘটনাটি রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করলেও বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছে সংবাদ মাধ্যমগুলো।

অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে যে, এক হিন্দু তরুণীর সাথে প্রতিমন্ত্রীর এমন স্পর্শকাতর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রথম আলো, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ইত্তেফাক, বিডিনিউজ২৪, বাংলা ট্রিবিউন, আমারদেশ, জাগো নিউজ তাদের কোনো ডিজিটাল বা প্রিন্ট প্ল্যাটফর্মে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বা কন্টেন্টও প্রকাশ করেনি। নিচে তার একটি অনুসন্ধান মূলক চিত্র তুলেধরা হলো:

গাজী নজরুল ইসলাম (বহিষ্কৃত জামায়াত সংসদ সদস্য) জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত পরিচালনা, বহিষ্কারাদেশ প্রদান এবং স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানোর কারণে এই সংক্রান্ত সংবাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রশাসনিক ও দলীয় উৎস তৈরি হয়। ফলে মূলধারার সকল মিডিয়া ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে কভার করে।

ওয়েবসাইট, ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫টি পৃথক কন্টেন্ট/নিউজ আপডেট প্রকাশ করেছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ইস্যুতে যেসব প্রতিবেদন করেছিল প্রথম আলো, এর মধ্যে ২১ জুলাই করা প্রথম সংবাদটি ছিল ‘জামায়াতের এমপির ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল, ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিলেন’ শিরোনামে। যদিও একইরকম ঘটনা বিএনপি প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রে ঘটার পর এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি সংবাদ মাধ্যমটি।

গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় ভিডিও ভাইরাল হওয়া, দলীয় প্রতিক্রিয়া ও বহিষ্কার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গড়ে ১০-১৫টি সংবাদ ও ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়াসহ গড়ে ৮-১২টি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

২৮ জুলাই ২০২৬-এর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে এক নারীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভিডিওটিকে ‘এআই-জেনারেটেড’ এবং “রাজনৈতিক অপপ্রচার” ও “চাঁদা দাবির ষড়যন্ত্র” হিসেবে দাবি করা হয়। দলীয় বা সরকারিভাবে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মূলধারার অনেক সংবাদমাধ্যম ফ্যাক্ট-চেকিং ও নীতিগত সতর্কতার অংশ হিসেবে সংবাদ প্রকাশের সংখ্যা সীমিত রাখে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সংবাদের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত রাখে এবং ভিডিওটির সত্যতা যাচাই সংক্রান্ত রিপোর্ট বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ভিত্তিতে কেবল কভারেজ দেয়। ঘটনাটির প্রত্যক্ষ ভিডিও বা স্ক্রিনশট প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে গড়ে ১ থেকে ৩টি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ভিডিও ছড়ানো, এমপি ও জামায়াতের বক্তব্য, এবং পরবর্তী রাজনৈতিক আইনি পদক্ষেপ নিয়ে গড়ে ১০-১৫টি সংবাদ ও ভিডিও রিপোর্ট প্রকাশ করে।

ডিজিটাল ও ফ্যাক্ট- চেক প্ল্যাটফর্ম : অপপ্রচার ও ভিডিওর কারিগরি দিক বিশ্লেষণ করে ১-২টি অনুসন্ধানমূলক কন্টেন্ট প্রকাশ করেছে।

মূলত স্থানীয় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন, অপপ্রচারের অভিযোগ এবং ফ্যাক্ট-চেকিং অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে সীমিত সংখ্যক (গড়ে ১-৩টি) প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বেঙ্গল লেন্সের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পত্রিকাটির ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে প্রায় ২৫ বার নজরুল সংক্রান্ত কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসাইন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হলেও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যায়।

বেঙ্গল লেন্স যাচাই করে দেখেছে, প্রতিমন্ত্রীর ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে প্রথম আলো এখন পর্যন্ত কোনো প্ল্যাটফর্মে একটি সংবাদ বা কন্টেন্ট প্রকাশ করেনি।