বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন কমিশনে মনোনায়ন পত্র জমাদানের পর বিএনপির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অর্থাৎ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হচ্ছে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন সর্বোচ্চ আলোচনা চলছে। স্থায়ী কমিটির কোন সদস্য থেকেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেছে নিবেন তাতে কোন সন্দেহ না থাকলেও কাকে নিচ্ছেন ‘রানিংমেট’ হিসেবে তা সবচেয়ে বেশি কৌতুহল হয়ে দাড়িয়েছে। সবাই যখন মহাসচিব নিয়ে কথা বলছেন তখন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিব নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি মহাসচিবের পদ শূন্য হয়, সেক্ষত্রে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীকালে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই আলোচনা বেশ জোরালো ছিল যে, মহাসচিবের পদ শূন্য হলে পদাধিকার বলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিলে তাকে ভারমুক্ত করে পূর্ণ মহাসচিব করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর প্যারালাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় ছিল।
এদিকে গতকাল রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে মনোনয়ন দেওয়ার পর তার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে যাওয়ার রাস্তা আরও একধাপ এগিয়েছে বলে মনে করেন রিজভীর অনুসারীরা। শেষ কথা হলো দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাকে বিশ্বস্ত এবং ক্যাপাবল মনে করবেন তাকেই নিয়োগ দিবেন। এক্ষেত্রে মহাসচিব পদে উঠে আসতে পারেন রাজনীতিতে পোড় খাওয়া ছাত্র নেতারাও।
তবে বোদ্ধারা মনে করেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার থেকে সরকার গঠিত হওয়ার পর বর্তমান সময় পর্যন্ত সরকার ফাংশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি তারেক রহমানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে তারেক রহমান সালাহ উদ্দিনের ওপর নির্ভরও করছেন। কারণ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তার দক্ষতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গুমের শিকার হওয়া এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে তার তথ্যপূর্ণ বাগ্মিতার কারণেও মহাসচিব হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব নতুন মনোনয়ন পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘদিন দলের দফতর ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিগত দেড় দশকে মামলা-হামলা উপেক্ষা করেই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। রাজপথে মিছিল করতে গিয়ে বাধার মুখেও পিছপা হননি। অনেক সময় হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন। বারবার কারাগারে গেছেন। তারপরও নয়াপল্টনই যেন ছিল তার ঘরবাড়ি। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলেও নয়াপল্টন কার্যালয়ে তার যাতায়াত কোনোভাবেই কমেনি।
রাজনৈতিক আলোচনার টেবিল ছাড়িয়ে যারা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কাছে থেকে চিনেন এমন ব্যক্তিরা মনে করেন, স্থায়ী কমিটির বাইরে কাউকে দেওয়া হলে তাদের একজন হতে পারেন পানি সম্পদ মন্ত্রী এ্যানি অথবা হাবিবুন নবী খান সোহেল। তারা দুজনেই ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে আত্মোৎসর্গীকৃত।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, কে নতুন মহাসচিব হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। সাংবিধানিক ও দলীয় প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।