বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পুর্বে ফ্যাসিস্ট সরকারের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের উপর জুলুমতন্ত্র কায়েম করেছিল। তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে চিনিমিনি খেলতো। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের নামে নিজেরা সুবিধা ভোগ করত। বর্তমান সরকারের শ্রমিক সংগঠন নতুন করে জুলুমতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করছে। এদেশে শ্রমিকদের উপর আর জুলুমতন্ত্র কায়েম করতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ ও স্বোচ্ছার থাকতে হবে।
তিনি শুক্রবার শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর আয়োজিত দিনব্যাপী ট্রেড ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। শিক্ষাশিবিরে মহানগর শ্রমিক কল্যাণের আওতাধিন সকল ইউনিটের সভাপতি ও সেক্রেটারিগণ অংশ নেন।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজুর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফেডারেশনের সিলেট মহানগরের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সহ-সেক্রেটারি এডভোকেট আলমগীর হোসাইন ও মহানগর উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহজাহান আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বিগত সরকার গুলো শ্রমিকদের ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করলেও তাদের ন্যূনতম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেনি। কারখানার শ্রমিকরা ন্যায্য আন্দোলন করতে গেলে হয়রানির শিকার হয়েছে। বকেয়া বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন করতে গেলে পুলিশী হয়রানি, হুমকি ধামকী ও জেল জুলুমের শিকার হয়েছে। ২০২৩ সালের গাজীপুরে ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে গুলীতে অনেক শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। রানা প্লাজা বিধ্বস্তের ঘটনায় ১১ শত শ্রমিক নিহতের পরও তাদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। যা জাতির জন্য দুঃখজনক।
তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলো সঠিক দায়িত্ব পালন করলে আজকে শ্রমিকদের এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। শ্রমিক ময়দানে সবচেয়ে বেশি অভাব সৎ নেতৃত্বের। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেই অভাব পূরণের চেষ্টা করছে। ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যা সমাধান হবে না। তাই শ্রমনীতি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য কাজ করতে হবে। মালিক শ্রমিকদের মধ্যে সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। যখন তখন শ্রমিক ছাটাই বন্ধ, বকেয়া মজুরি প্রদান ও ঈদের আগে বোনাসসহ সকল পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ফেডারেশনের সিলেট মহানগর সহ-সভাপতি মিয়া মো: রাসেল, সহ-সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন আলমগীর, আক্কাস আলী, নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক দিলশাদ মিয়া, মুহিবুর রহমান শামীম ও প্রচার সম্পাদক নাজমুল ইসলাম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।