দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাম সন্দেহে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২০৬ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৯১ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৩৫২ জন। এ সময় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৬৫ জন।
১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ১২৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১০ হাজার ৪৯৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরো দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীন। তিনি বলেন, ‘এই বয়সের শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তারা আগে এই টিকা নিয়ে থাকলেও তাদের আমরা আবার বুস্টার টিকার আওতায় আনছি। দেশে হামের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজারের (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আইভিডি কো-অর্ডিনেটর ড. বিনোদ কুমার বুড়া বলেন, বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা তুলে ধরে সবাইকে টিকাদানে উৎসাহিত করেন। ইউনিসেফের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা হামের বিষয়ে নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের অঙ্গীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।