*বিভিন্ন দেশ থেকে ২০০৮-২০২৫ সালের মধ্যে ডিপোর্টি হিসেবে দেশে ফিরেছেন সাড়ে ১০ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশি
মুহাম্মদ নূরে আলম
ইউরোপের জমকালো জীবন, অর্থনৈতিক প্রাচুর্য আর উন্নত ভবিষ্যতের সোনালী স্বপ্ন। কিন্তু এই স্বপ্নই এখন দেশের হাজার হাজার উদীয়মান তরুণ-যুবকের জন্য এক মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র ও স্থানীয় দালালদের লোভনীয় ফাঁদে পা দিয়ে ভূমধ্যসাগরের উত্তাল তরঙ্গে প্রতি বছর সলিলসমাধি ঘটছে শত শত প্রাণবন্ত তরুণের। নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার, ধ্বংস হচ্ছে অজস্র উদীয়মান তরুণের ভবিষ্যৎ। আর এই অবৈধ অভিবাসন মৃত্যুযাত্রার ভয়ংকর রুট হচ্ছে লিবিয়া। সংকট এতোটাই ঘনীভূত হয়েছে যে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অবৈধ প্রবেশের তালিকায় বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে অবস্থান করছে। শুধু ইতালিতেই নয়, ইউরোপের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’ ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসে সাগরপথে গ্রীসে প্রবেশের দিক দিয়েও বাংলাদেশীরা বিশ্ব রেকর্ড গড়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। ইউরোপের এই ঝুঁকিপূর্ণ স্বপ্ন এখন দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজের সামনে এক আত্মঘাতী ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের জেলখানা বা বন্দীশালা থেকে খালি হাতে নিঃস্ব হয়ে ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ডিপোর্টি হিসেবে দেশে ফিরেছেন সাড়ে ১০ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশি। প্রতি বছরই গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার মানুষ কোনো না কোনো দেশ থেকে ডিপোর্ট হয়ে দেশে ফিরছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের বক্তব্য অবৈধ পথে অভিবাসন বন্ধে এবং পাচারের শিকার নাগরিকদের উদ্ধারে কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ পালিত হয়েছে বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল: “ঞৎধঢ়ঢ়বফ ইবযরহফ ঃযব ঝপধস: ঊহফরহম ঐঁসধহ ঞৎধভভরপশরহম ভড়ৎ ঋড়ৎপবফ ঈৎরসরহধষরঃু” বা প্রতারণার আড়ালে বন্দি: জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকা-ের জন্য মানবপাচার বন্ধ করা।
অবৈধ অভিবাসন মৃত্যুযাত্রার ভয়ংকর রুট লিবিয়া: সূত্রে জানা যায়, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে পাচারের শিকার হওয়া তরুণদের বড় একটি অংশের যাত্রাপথ শুরু হয় ঢাকা থেকে ভিজিট বা ভ্রমণের ভিসায় ট্রানজিট রুট হিসেবে মিসর, দুবাই কিংবা তুরস্ক যাওয়ার মাধ্যমে। সেখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের নিরাপদ ঘাঁটি যুদ্ধবিধ্বস্ত উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায়। লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর তরুণদের ভাগ্যে নেমে আসে অবর্ণনীয় অন্ধকার। মাফিয়া চক্রের ক্যাম্পগুলোতে জিম্মি রেখে চলে অমানুষিক নির্যাতন।
ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ৭৫ শতাংশ তরুণ কোনো কাজ পান না, উল্টো ৯৩ শতাংশই বন্দিশালায় আটক থাকেন এবং ৭৯ শতাংশ সরাসরি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। মুক্তিপণ হিসেবে জিম্মি তরুণদের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। নির্যাতনের পর কঙ্কালসার হয়ে পড়া তরুণদের তুচ্ছ প্লাস্টিক ও কাঠবোঝাই নৌকায় ঠাসাঠাসি করে ভাসিয়ে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথে। এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল ২০২৬ সালের মার্চ মাসে। লিবিয়ার তোবরুক উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে গ্রীসে যাওয়ার পথে দিক হারিয়ে খাবার ও পানির অভাবে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন, যার মধ্যে ১২ জনের বাড়িই ছিল সুনামগঞ্জ জেলায়। ৬ দিন ধরে সাগরে ভেসে থাকা সেই নৌকাটি থেকে পাচারকারীদের নির্দেশে সহযাত্রী জীবিত তরুণরাই বাধ্য হয়েছিল সহযোদ্ধাদের নিথর দেহগুলো সাগরের পানিতে ফেলে দিতে।
ইউরোপের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সমন্বিত তথ্যে সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুট ও সীমান্ত পারাপারের ভয়াবহ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত কেবল লিবিয়া-ভূমধ্যসাগর রুট ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। ফ্রন্টেক্সের হিসেব অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির উপাত্ত অনুযায়ী, গত এক দশকে (২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত) কেবল ভূমধ্যসাগর ও সমুদ্রভিত্তিক বিপজ্জনক অভিবাসন রুট পাড়ি দিতে গিয়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০-এর বেশি বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। যেহেতু সাগরে তলিয়ে যাওয়া বা গহীন মরুভূমিতে মারা যাওয়া অনেকের নিথর দেহ কিংবা নিখোঁজ থাকার কোনো রেকর্ড থাকে না, তাই বাস্তবে এই সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগরের সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুটে (লিবিয়া ও তিউনিসিয়া হয়ে ইউরোপ) গত ১০ বছরে মারা যাওয়া মোট অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশই ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক। ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই (জানুয়ারি-এপ্রিল) ভূমধ্যসাগরে বিভিন্ন দেশের প্রায় ১,০০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা যান বা নিখোঁজ হন, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশি। মৃত্যুর প্রধান কারণসমূহ হলো: নৌকাডুবি, অনাহার ও পানিশূন্যতা, পাচারকারীদের নির্যাতন। ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে (জানুয়ারি-জুন) ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইতালিতে প্রবেশ করেছেন ৪ হাজার ২৪৯ জন এবং একই সময়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রীসে পাড়ি জমিয়েছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি।
ফেরত পাঠানো ও বন্দীদশা: গত ৬ বছরে সমুদ্র সীমান্ত ও বিভিন্ন জিম্মিখানা থেকে উদ্ধার করে লিবিয়া থেকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশিকে। ভূমধ্যসাগরে অনিয়মিতভাবে পাড়ি জমানো তরুণদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। বিশেষ করে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
সাইবার স্ক্যাম সেন্টারের মাধ্যমে মানবপাচারের ফাঁদ: সাইবার স্ক্যাম, রাশিয়ায় যুদ্ধ ও নারীপাচার মানবপাচার এখন কেবল ভূমধ্যসাগরেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি আরও কয়েকটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম) ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানোর নৌকার ছবি ও ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে লোভ দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে কম্পিউটার অপারেটর বা কাস্টমার সার্ভিসের চাকরির লোভ দেখিয়ে তরুণদের ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে ফিরে আসা ৫৮৩ জনের ওপর পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে ৯৮% কোনো চাকরি পাননি, ৯০% কে জোরপূর্বক সাইবার জালিয়াতিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং ২৭% ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে মানবঢাল: ওয়েল্ডার, সিকিউরিটি গার্ড বা কারখানার উচ্চবেতনের চাকরির প্রলোভনে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তরুণদের। সেখানে পৌঁছানোর পর না বুঝে রুশ নথিতে স্বাক্ষর করিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারে মানবঢাল হিসেবে পাঠাচ্ছে দালাল চক্র। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশত বাংলাদেশি এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মানবপাচার মামলা ঝুলছে। এর মধ্যে ৩,৩০৬টি মামলা আদালতে বিচারাধীন এবং ১,৯৭৮টি মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের প্রথম মে মাসের মধ্যেই নতুন করে প্রায় ৫০৪টি মামলা হয়েছে (মে মাসেই ১২৩টি), কিন্তু বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৭টি মামলার। বিচারহীনতা ও প্রমাণের অভাবে অপরাধীদের সিংহভাগই খালাস পেয়ে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি বলেন, দালালচক্র ট্যুরিস্ট ভিসায় নিয়ে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস বা কাজের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে। এ কারণে এসব দেশের ট্যুরিস্ট ভিসাধারী যাত্রীদের বিষয়ে আরও সতর্ক যাচাই-বাছাই করতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লাওস ও কম্বোডিয়ায় ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে অনেক বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার মতো অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানবপাচার প্রতিরোধ এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাধ্যমে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনিয়মিত ও অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। লিবিয়ায় আটকে পড়া বা জিম্মি হওয়া নাগরিকদের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। একই সাথে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সম্পূর্ণ রুখে দিতে এবং আন্তর্জাতিক মানদ-ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকার ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এতে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। তবে সরকারি চেষ্টার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে এই ঝুঁকি কমাতে।”
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ‘‘ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ এবং গ্রীসে প্রবেশের তালিকায় বাংলাদেশিদের শীর্ষে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দেশের জন্য মর্যাদাহানিকর। পাচারকারীরা প্রযুক্তির ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে, যার বিপরীতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নজরদারি ব্যবস্থা পিছিয়ে রয়েছে। হাজার হাজার মামলা ঝুলে আছে এবং মূল অপরাধীদের কোনো বিচার হচ্ছে না। কেবল নতুন আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; মানবপাচারপ্রবণ জেলাগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, মূল পাচারকারীদের গ্রেফতার, তাদের অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া ভূমধ্যসাগরের এই সলিলসমাধি থামানো অসম্ভব।”