বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : বিরামপুর উপজেলা দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। বাতাসের তালে তালে সবুজ ধানের ক্ষেতে ঢেউ খেলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিরামপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গোলা ভরে সোনার ধান তোলার আশায় বুক বেঁধে আছেন কৃষকেরা। তবে তাদের একমাত্র ভয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লোডশেডিং। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকট হলেও সেচের জন্য বিরামপুর উপজেলায় ডিজেলের কোন সংকট দেখা দেয়নি। তবে মাঝে মাঝে লোডশেডিং এর মধ্যে পড়তে হচ্ছে কৃষকের সেচ পাম্প গুলোর। অনেক জমির ধান গাছে থোড় এসেছে। আর কয়েকদিন পরেই ধানের ছড়া বের হবে। তবে মিনিকেট ধান আর কয়েকদিন পরেই কৃষকেরা কর্তন করবেন। পাশাপাশি সাই জিরা বা বাবু কাটারি ধানের শীষ পুরোপুরি বের হয়েছে। অন্যান্য জাতের ধানের শীষ বের হতে আরো বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। কৃষক ফারুক চৌধুরী, আলতাব হোসেন মনোয়ার হোসেন , জানান ,সম্প্রীতি এ অঞ্চলে শিলাবৃষ্টিতে মিনিকেট ও বাবু কাটারি ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এই শিলা বৃষ্টিতে কৃষকদের মনে ভীতির সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। তারা সংশয়ের মধ্যে আছেন বোরো ধান পাকা এবং কর্তনের আগ মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন না আসে। চলতি মৌসুমে পোকার তেমন আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়নি। তারা আরও জানান, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্ব গতিতে তেলের দাম, শ্রমের মূল্য, কীটনাশক, সারের মূল্য, সেচের দাম ইত্যাদি সহ প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সরকার কৃষকের জন্য ধানের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ না করে দিলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় জানান, বিরামপুর উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ২ শত ৫৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এই অঞ্চলে উফশী জিরা শাইল, শম্পা কাটারি, ব্রি ধান- ৯২, ব্রি ধান- ৮৯ ,ব্রি ধান ২৯, ব্রি ধান ২৮ ও অন্যান্য মোট ১০৮৪৮ হেক্টর এবং হাইব্রিড হীরা-২, এসিআই-২ ইস্পাহানি, ধানি গোল্ড, সুবর্ণ-৪ মোট ৪৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। তিনি আরো জানান, সেচের জন্য কৃষকেরা ডিজেল সংকটের সম্মুখীন হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিরামপুর উপজেলায় বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি বলে আশা পোষণ করেন।