আব্দুর রাজ্জাক রানা, খুলনা ব্যুরো

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলা সদর ইউনিয়নের হাটবাড়ী গ্রামের কৃষকরা চলতি মওসুমে ঢেঁড়স চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। উপজেলার হাটবাড়ি গ্রামের শ্যামল, বিশ্বজিৎ, লাল্টু, প্রভাস, হিরামনসহ একাধিক কৃষক বিভিন্ন এলাকায় ঢেঁড়স চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ইতঃপূর্বে এ উপজেলায় এক ফসলি জমি ছিল। উক্ত এক ফসলি জমি থেকে ধীরে ধীরে বহু ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২শত ৩০ একর জমিতে চলতি বছরে ঢেঁড়সের চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তর। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢেঁড়সের চাষ হয়েছে প্রায় ৫০ একর।

উক্ত ওয়ার্ডের হাটবাটী গ্রামের কৃষক শ্যামল বিশ্বাস বলেন, “আমি বাড়ির পাশে ৩ বিঘ জমিতে উচ্চ ফলনশীল ঢেঁড়সের চাষ করেছি। এতে বীজ ও অন্যান্য খরচসহ সর্বমোট ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বীজ বপনের ৪৫ দিন পর থেকে আমার জমিতে সিংহভাগ গাছে ঢেঁড়সের ফুল এসেছে। বর্তমানে উক্ত ফুল থেকে ঢেঁড়স বড় হয়ে বিক্রির উপযুক্ত হওয়ায় তা কেটে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় বটিয়াঘাটা বাজার সহ খুলনা কাঁচা বাজার ও বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি শুরু করেছি। বর্তমানে প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। এখন পর্যন্ত আমি ১০ থেকে ১২ মণ ঢেঁড়স বিক্রি করেছি। গাছ ভালো থাকলে আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ঢেঁড়স বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আমি আশা করছি। চলতি মওসুমে প্রায় ২৬০ থেকে ২৭০ মণ ঢেঁড়স উৎপাদন হতে পারে বলে মনে করছি।

বর্তমান বাজারদরে যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ টাকা হবে। তিনি আরও জানান, “ঢেঁড়সের দাম বেশি পাওয়ার লক্ষ্যেই বর্ষা মওসুমকে সামনে রেখে আবাদ করেছি। চলতি বছরে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় বাজারে অন্যান্য সবজি বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আর এ কারণেই তুলনামূলকভাবে কম দামে ঢেঁড়স বিক্রি করতে হচ্ছে। কিছুদিন পর আরও বেশি দামে ঢেঁড়স বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী তিনি।

বটিয়াঘাটা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কমলেশ বালা বলেন, এ সময় বটিয়াঘাটা উপজেলা জমি এক ফসলি জমি ছিল। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিনামূল্যে কৃষকদের বীজ ও সার প্রদান করায় এ সাফল্য এসেছে। যার সুফল আজ তা কৃষক ভোগ করছে। আমার ওয়ার্ডে চলতি মওসুমে ঢেঁড়সসহ, তিল, তিলে মুগ ডাল ও বিভিন্ন সবজি প্রচুর পরিমাণে উপাদান হচ্ছে এবং চাষীদের লাভবান করতে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে চলেছি।

এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “বটিয়াঘাটায় চলতি মওসুমে বোরো ধান, তরমুজ, ঢেঁড়স, তিল, তিলে মুগ ডাল, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঝিঙা, শসা, উচ্ছে সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। কৃষকদের মাঠের ফসলও ভালো হয়েছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং উৎপাদিত ফসলের ঠিকঠাক দাম পেলে কৃষকরা লাভবান হবে।