মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পশু হাটগুলা জমে উঠেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো হাট এলাকা। সকাল থেকে ট্রাক ভর্তি গরু নিয়ে আসছে ব্যবসায়ীরা। ছোট-বড়, দেশি-ক্রসসহ নানা জাতের গরু ও ছাগলে ভরে গেছে হাট। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, হাটের প্রাণচাঞ্চল্য ততই বাড়ছে।
গত রবিবার (১৭ মে) যদুবয়রা হাটে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক গরু-ছাগলে হাট কানায়-কানায় পরিপূর্ণ। হাটে পশুর চাহিদা অনুযায়ী পশুর উপস্থিতি থাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই সন্তুষ্ট। গরু কিনতে আসা ক্রেতা সোহাগ ইসলাম জানায়, সাড়ে সাত লাখ টাকায় একটি গরু কিনেছি। হাটে এসে খুব ভালো লাগছে। আরেক ক্রেতা পলাশ বলেন, কুরবানির জন্য গরু কিনলাম। হাটে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে কেনাবেচা করতে পারে, সেটাই চাই। দেশি গরু নিয়ে আসা মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশি গরুর দাম মোটামুটি ভালো। ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
গরুর পাশাপাশি ছাগলও আমদানী ছিল প্রচুর। তোতাপুরি ছাগল বিক্রেতা বিল্লাল জানান, ছাগলটির দাম হচ্ছে ৩০-৩২ হাজার টাকা। শরীরে ৪০-৪৫ কেজি মাংস হবে। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পশুখাদ্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি। কুমারখালী স্টেশন বাজার সংলগ্ন ছালপট্টি বাজার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জিলাল বলেন, দুইমাস আগে ৩৯ কেজির বস্তা খুদ ১ হাজার ৫৫০ টাকা, ৫৫ কেজির বস্তা ছাল ২ হাজার ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা, খেসারী প্রতিমণ ২ হাজার ৪০০-৬০০ টাকা, গম প্রতিমণ এক হাজার ৫৫০-৮০০ বিক্রি হয়েছে। তবে এসব গোখাদ্যের বাজার উঠানামা করে প্রতিনিয়ত।
কুমারখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানা যায়, পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের খামারে ষাঁড় ১৭ হাজার ৭০৪, বলদ ৩৮, ছাগল ১২ হাজার ৭৮৪, ভেড়া ৩১৩ ও মহিষ ১৭টি পালন হয়েছে। এবার পশুর চাহিদা ১৮ হাজার হলেও গত বছর ছিল ১৫ হাজার। বর্তমানে শেষ মুহুর্তে পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে খামারীদের। ৩ হাজার ৫৯৭টি খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৫৫৯ পশু। উপজেলায় পশুর চাহিদা গত বছরের তুলনায় ৩ হাজার বেশি। একই সংখ্যক খামারে ৮ হাজার ১৫৯টি পশু বেশি পালন করেছেন খামারিরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাংসের দাম , চাহিদা ও লাভ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশু পালনে আগ্রহ বাড়ছে খামারিদের। সংসারে বাড়তি আয়ের জন্য খামারি ছাড়াও কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবীসহ নানান পেশার মানুষ করছে পশু পালন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন আরো বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এলাকায় পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। মাংসের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পশু পালন বেড়েছে। রমজানের ঈদেও অনেক পশু বিক্রি হয়েছে। এবারও ভালো দাম পাবেন খামারিরা।
এদিকে হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছেন। জাল টাকা প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলা কিউআর, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা চালু রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। যদুবয়রা পশুর হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীদের নিরাপত্তা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি। সবাই যাতে নিরাপদে কেনাবেচা করতে পারেন, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। শুধু পশু কেনাবেচার জায়গা নয়, ঈদকে ঘিরে যদুবয়রা পশুর হাট এখন মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ঈদ যত এগিয়ে আসবে, হাটের ব্যস্ততা ততই বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্ট সকলের।