গাইবান্ধা সংবাদদাতা : জেলার সাতটি উপজেলায় এখন ইরি-বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম চলছে। বৈশাখ মাস প্রায় শেষ হলেও মাঠজুড়ে এখনও পাকা ধান কাটার ব্যস্ততা বিরাজ করছে। তবে এই মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট ও ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে বাজারে ধানের দামও আশানুরূপ নয়। বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরিই গুনতে হচ্ছে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। ফলে ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ধান কাটার জন্য কৃষকরা শ্রমিক খুঁজে পাচ্ছেন না। যারা কাজ করছেন তারা বাড়তি মজুরি দাবি করছেন। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক স্থানে পাকা ধান মাঠেই পড়ে আছে। কৃষকদের ভাষ্য, আগে গ্রামের মানুষ কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন অনেকেই কাজের সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ শ্রমিকদের বড় একটি অংশ গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কাজ করতে ঢাকা ও অন্যান্য শহরে চলে গেছেন। সেখানে সারা বছর কাজ ও নিয়মিত আয় থাকায় কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখন স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে গার্মেন্টসে কাজ করছেন। কেউ কেউ ছেলে-মেয়েকেও সঙ্গে নিয়ে শহরে বসবাস করছেন। ফলে গ্রামে কৃষি মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও সেই তুলনায় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।