কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : কাজিপুর মাঠ জুড়ে এখন সবুজের মাঝে সোনালীস্বপ্ন। ভুট্টার বাম্পার ফলন শুধু কৃষকের মাঝে হাসি ফোটাচ্ছে না, বরং বদলে দিচ্ছে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র। কাজিপুরে এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন ভুট্টা চাষের প্রতি ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল, বিল ও নিচু জমিতে ভুট্টার চাষ বিশেষভাবে সফল হওয়ায় এই ফসল এখন হয়ে উঠছে এলাকার অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা।

কাজিপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর টার্গেট ছিল ৮৮০০ হেক্টর জমি আর অর্জিত মাত্রা হয়েছে ৮৯১৫ হেক্টর জমিতে ভূট্টার আবাদ হয়েছে।গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ভুট্টা আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কাজিপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১টি পৈারসভার মধ্যে সোনামুখি ও চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এসব এলাকায় ফলনও আশাব্যঞ্জক। এবার কৃষকেরা হাইব্রিড জাতের ভুট্টা যেমন যুবরাজ, আলাক্সা, রকেট ৫৫, পাইনিয়ার, রাজলক্ষী ইত্যাদি জাত চাষ করছেন। উন্নত জাত ব্যবহারের ফলে ফলন যেমন বাড়ছে, তেমনি রোগবালাইও কম হচ্ছে। সোনামুখি ইউনিয়নের পাঁচগাছি গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ ও ইমাম হোসেন জানান, তারা প্রত্যেকে প্রায় ২ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। নিয়মিত সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে তাদের ক্ষেতের অবস্থা খুবই ভালো। তারা আশা করছেন, এ বছর ফলন হবে সন্তোষজনক।

মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধকরণে কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের এই সহায়তা কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করছে। চালিতাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম, সোহান, লেবু ও রাজ্জাক জানান, ভুট্টা চাষে খরচ তুলনামূলক কম কিন্তু লাভ বেশি। এজন্য গত বছরের তুলনায় এ বছর তাদের এলাকায় ভুট্টার আবাদ বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মন ভুট্টা প্রায় ১০০০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৩০-৩৫ মন ভুট্টা উৎপাদনের আশা করছেন কৃষকেরা। ফলে - লাভের সম্ভাবনাও বেশ উজ্জ্বল।

ভুট্টার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর কোনো অংশই অপচয় হয় না। দানা খাদ্য ও পশুখাদ্য হিসেবে - ব্যবহৃত হয় আর গাছ জ্বালানি বা খড়ি হিসেবেও কাজে লাগে। ফলে এটি একটি বহুমুখী ও লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম জানান, ভুট্টা একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল যা মানুষের খাদ্য, গো-খাদ্য এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান’ করা হচ্ছে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভুট্টা আবাদে এ বছরে বাম্পার ফলনসহ কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।