রাজশাহীতে মওসুমের অন্যতম জনপ্রিয় ফল লিচুর উৎপাদন এমনিতেই কমছে। তাতে আবার চলতি মওসুমের তীব্র দাবদাহে আগাম জাতের লিচু ফেটেও যাচ্ছে। এতে লিচু চাষির মুখের হাসি উবে যাবার দশা হয়েছে।

চলতি তীব্র দাবদাহের মাঝে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে রাজশাহীর লিচু বাগানগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি। আগাম জাতের লিচু পাকার আগেই ফেটে যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে ঝরেও পড়ছে। এতে চাষিদের মধ্যে বেড়েছে দুশ্চিন্তা। আশঙ্কা করা হচ্ছে উৎপাদন কমে যাওয়ার। এপ্রিলের শুরু থেকেই রাজশাহীতে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। গত ২২ এপ্রিল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটিই এবারের মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তীব্র এই তাপদাহের আগে মৃদু ও মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছিল এপ্রিলজুড়ে। এর মধ্যেই হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতির এই বৈপরীত্যের প্রভাব সরাসরি পড়েছে লিচু বাগানগুলোতে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৫৩০ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৩ হাজার ৭৬৮ মেট্রিক টন। চলতি বছর বাগানের পরিমাণ সামান্য কমে ৫২৮ হেক্টরে দাঁড়ালেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে কিছুটা বেশি। তবে বর্তমান আবহাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নগরীর চন্ডিপুর এলাকায় লিচু গাছগুলোতে দেখা গেছে, গাছে ফল ধরেছে এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পাকার উপযোগী হবে। কিন্তু প্রতিটি থোকায় দু-একটি করে লিচু এরইমধ্যে ফেটে গেছে। অনেক ফলের গায়ে কালচে ও খয়েরি দাগ পড়েছে। এ ছাড়া কিছু ছোট আকারের লিচু ঝরে মাটিতেও পড়ে থাকতে দেখা যায়। নগরীর রায়পাড়া এলাকার একটি বাগানের লোকেরা জানান, গরমে লিচু ঝরে পড়া বা ফেটে যাওয়া নতুন কিছু নয়, তবে এবার এর মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এতে তারা ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। উৎপাদন কম হবে বলে আশংকা করছেন। কৃষি বিভাগের লোকজন বলছেন, তাপপ্রবাহের মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিপাতের ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে থাকার পর হঠাৎ বৃষ্টি হলে লিচুর ভেতরের অংশ দ্রুত স্ফিত হয়, কিন্তু খোসা সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে ফেটে যায়। মাঠপর্যায় থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। চলতি এপ্রিল জুড়েই রাজশাহীতে এই দুই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। গত বুধবার তা তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নেয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় বৃষ্টিপাতও হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার ৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এছাড়া ৮, ৯ ও ১০ এপ্রিলও অল্প পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তাপপ্রবাহ আর অনিয়মিত বৃষ্টির এমন প্রভাবে রাজশাহীর সুস্বাদু লিচু উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাষিরা এখন তাকিয়ে আছেন আবহাওয়ার অনুকূল পরিবর্তনের দিকে। খরার মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিপাতই লিচু ফেটে যাওয়ার মূল কারণ বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে। এ থেকে গাছকে রক্ষা করতে হলে খরা চলাকালেও গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ দিতে হবে। প্রয়োজনে গাছে পানি স্প্রে করা যেতে পারে। পাশাপাশি হরমোন, বোরণ বা জিংক প্রয়োগ করলে কিছুটা প্রতিকার মিলতে পারে।