ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থের স্থিতি ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। চলতি বছরের মে মাসের শেষে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। পরবর্তী দুই মাসে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। অথচ দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের লেনদেন হচ্ছে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া মূলত ব্যাংক খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট, ব্যাংকবিমুখতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের নগদ খরচ বেড়ে যাওয়ার একটি বড় ও স্পষ্ট আলামত।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন জানান, দেশের লাখ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো এখনো সীমিত। মূল্যস্ফীতি পাঁচ শতাংশে নেমে আসলে ব্যাংকের বাইরের নগদ টাকা অর্ধেকে নেমে আসবে। অন্যদিকে দুর্বল ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ তুলে ঘরে রাখার প্রবণতাও দেখা গেছে।

ব্যাংক ব্যবস্থার অস্থিরতার কারণে গ্রাহকদের একটি অংশ আমানত তুলে নেওয়ায় নগদ টাকার প্রবাহ বেড়েছে। মে মাসের পরবর্তী সময়ে একটি বড় ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন ও টানাটানির সময় সেখান থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা উঠে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, প্রযুক্তির সম্প্রসারণে অনানুষ্ঠানিক খাতের আকার ছোট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি হওয়া এবং একই সঙ্গে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বৃদ্ধি পাওয়া একটি পরস্পরবিরোধী ধারা।

দেড় দশক আগে ২০১১ সালে দেশের ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ০৯ হাজার ৫১৭ কোটি টাকায়। ২০২৩ সালের জুনে এর পরিমাণ ২ লাখ ৯১ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা হয় এবং পরবর্তীতে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যম জনপ্রিয় হলেও মানুষ ব্যাংকবিমুখী হচ্ছে কিনা তা উদ্বেগের বিষয়। সব মার্চেন্টকে বাংলা কিউআরের আওতায় আনা এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে চেষ্টা চলছে।