ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ৭.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের আমদানি ও রপ্তানির তথ্যানুযায়ী সার্কভুক্ত দেশ আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সার্কভুক্ত দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবস্থান হলো: আফগানিস্তানে রপ্তানি ১১.০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আমদানি ২১.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারসাম্য-১০.৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভুটানে রপ্তানি ১৪.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আমদানি ৪৪.১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারসাম্য-২৯.৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ভারতে রপ্তানি ১৭৬৪.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আমদানি ৯৬২৪.১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারসাম্য-৭৮৫৯.৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। নেপালে রপ্তানি ৩৫.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আমদানি ৫.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারসাম্য ২৯.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
পাকিস্তানে রপ্তানি ৭৪.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আমদানি ৭৫৫.৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারসাম্য-৬৮১.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শ্রীলংকায় রপ্তানি ৮২.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আমদানি ৭৬.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারসাম্য ৬.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মালদ্বীপে রপ্তানি ৬.৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আমদানি ৩.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারসাম্য ২.৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। (তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক)।
তিনি আরও জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ৭.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে নেপাল, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ ব্যতীত অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়
দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সংসদে প্রশ্নবাণে পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অত্যন্ত মডারেট বা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংসদে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে জানতে চান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে ছিল, যা এখনো খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশের উপরে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আছে কি না।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি কেন বাড়ছে, সেটি আমাদের বুঝতে হবে। সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম যে অনুপাতে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে সেটি অনেক কম। আমরা জ্বালানির দাম খুবই মডারেট হারে বাড়িয়েছি।
তিনি বলেন, একটি শিল্প কারখানায় মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানির পেছনে। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন খরচের সেই ৭-৮ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ প্রভাব পড়েছে, যা খুব বড় কোনো অভিঘাত নয়।
পরিবহন খাতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে। এতে খরচ বেড়েছে ৪৫০ টাকা। এই ৩০ লিটার ডিজেলের জ্বালানি দিয়ে যে ট্রাকটি পণ্য পরিবহন করে, সেটি ১০ হাজার কেজি পণ্য বহন করতে পারে। অর্থাৎ, এই ৪৫০ টাকার প্রভাব ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর পড়ে। শুনলে মনে হতে পারে দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু পরিবাহিত পণ্যের ইউনিটের ভিত্তিতে হিসাব করলে এটি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো বড় উদ্দীপক নয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড)। সেখানে সরকারের আলাদা পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। আমেরিকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে সেখানে গ্যালনপ্রতি দাম ২ ডলার ৭০-৮০ সেন্ট থাকলেও তা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আপনি অর্থনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না, যে জায়গায় ফান্ডামেন্টাল ব্যালেন্স ইমব্যালেন্সে পৌঁছে যায়। সেই ভারসাম্য রক্ষার্থে পৃথিবীর সব দেশ যে নীতি নিয়েছে, আমরাও সেই নীতি অবলম্বন করে মডারেটভাবে মূল্যবৃদ্ধি করেছি।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় রপ্তানিতে চাপ, প্রভাব পড়তে পারে রেমিটেন্সে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনা বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিটেন্স প্রবাহের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
সংসদ সদস্য (পাবনা-৫) শামসুর রহমান শিমুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও ওমানে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্য ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে আমদানি ব্যয়, শিপিং ও বিমা খরচ বেড়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি হ্রাস ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার লজিস্টিক ব্যয় কমানো এবং যুদ্ধের প্রভাবমুক্ত দেশগুলোতে বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ছাড়া সার্কভুক্ত সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ৭ হাজার ৮৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া পাকিস্তানে ৬৮১ মিলিয়ন, আফগানিস্তানে ১০.৭১ মিলিয়ন এবং ভুটানে ২৯.৭৭ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। বিপরীতে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বজায় রয়েছে।
কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী গত ৫ বছরের রপ্তানি চিত্র তুলে ধরে বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৫৫.১৯ বিলিয়ন ডলারে। এছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ১১০টি পণ্যের শুল্ক রহিত এবং ৬৫টি পণ্যের শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এতে মূল্যস্ফীতি সেভাবে বাড়বে না। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি অত্যন্ত সামান্য। ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়লেও উৎপাদন খরচে এর প্রভাব খুবই নগণ্য। পরিবহনের ক্ষেত্রেও পণ্যপ্রতি এই বাড়তি ব্যয়ের ভার অত্যন্ত সামান্য, যা মূল্যস্ফীতিতে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক (নুর) জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৩.৯২ বিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এছাড়া ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে।
টাঙ্গাইল-৭ আসনের আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুর বারী জানান, সরকারি গুদামে বর্তমানে ১৭.৭১ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে চাল ১৪.৬৪ লাখ টন। বর্তমান মজুত পরিস্থিতিকে তিনি ‘সন্তোষজনক’ বলে জানান।
‘১৮ দেশের সঙ্গে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে’
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য (কুড়িগ্রাম-২) আতিকুর রহমান মোজাহিদের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর পক্ষে সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক উত্তর দেন। এ সময় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের পর অন্যতম বড় শ্রমবাজার হচ্ছে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে এপ্রিল মাসের ৮ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং আমি দেশটি সফর করেছি এবং মালয়েশিয়ার সরকার ও আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আশা করছি অতিদ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশী কর্মী প্রেরণের পথ সুগম হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য বন্ধ এবং সংকুচিত শ্রমবাজার মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মীর পাঠানোর লক্ষ্যে দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশে দক্ষকর্মী পাঠানোর উদ্দেশে এক লাখ ড্রাইভার তৈরির জন্য ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যে সকল দেশে বাংলাদেশী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ভিসার মেয়াদ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ৪টি দেশের সঙ্গে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন (এমওসি) এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় এবং জাপান এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর জন্য জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অধিকহারে কর্মী পাঠানোর জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ নামে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ কর্মীর পাশাপাশি ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন।
সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত : সংসদকে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুত রয়েছে। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি গুদামগুলোতে মোট ১৭ লাখ ৭১ হাজার টন খাদ্যশস্যের মজুত ছিল বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি গুদামে সংরক্ষিত এই মোট খাদ্যশস্যের মধ্যে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার টন চাল এবং ৩ লাখ ৭ হাজার টন গম রয়েছে। সরকার জি-টু-জি ব্যবস্থা এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশ থেকে চাল ও গম আমদানি করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ লাখ টন চাল আমদানির চুক্তির বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৭ হাজার টন চাল দেশে পৌঁছেছে, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এবং জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে ১ লাখ টন চাল পাওয়া গেছে। গমের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৬০ হাজার টন জি-টু-জি চুক্তির আওতায় এবং ৫০ হাজার টন আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সব মিলিয়ে ৭ লাখ ৩ হাজার টন গম পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন গম নিয়ে একটি জাহাজ আগামী ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বোরো ও আমন মৌসুমে খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া কৃষি সহায়তা কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ধান ও গম কেনা হচ্ছে।
আসন্ন ২০২৬ সালের বোরো সংগ্রহ মৌসুম (মে থেকে আগস্ট) নিয়ে সরকারের বড় পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ টন আতপ চাল এবং ৫ লাখ টন ধান সংগ্রহের প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা হবে।