ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের হলে আবাসন সমস্যার সমাধান, রেজিস্ট্রার ভবনের ক্রমাগত অসংগতি ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি রোধে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করেছে ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদের কাছে তাদের দাবি গুলো জানাতে যায়। তখন তিনি উপস্থিত না থাকায় ডাকসু সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ রেজিস্ট্রারের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন। এরপর ভিসির কাছে দাবিগুলো জানাতে ভিসির অফিসে যায় ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা।

‎‎এসময় তাদের ‘সিট নিয়ে তালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘সিট আমার অধিকার, আটকে দেয়ার সাধ্য কার’, ‘সিট ছাড়া ক্লাস কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আদুভাই হলে থাকে, প্রশাসন কী করে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।পরে ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনদের সিট সংকট, রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের অব্যবস্থাপনা ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা, সিট বরাদ্দে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ভিসির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

‎‎এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর প্রফেসর সাইফুদ্দীন আহমদ, স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল প্রভোস্ট ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন ও অমর একুশে হলের প্রভোস্ট ড মুহাম্মদ জসীমউদ্দীন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

‎‎আলোচনা চলাকালে স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল প্রভোস্ট ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘২০ এপ্রিলের মধ্যে নবীন শিক্ষার্থীদের হলে সিট দেওয়া সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়ার জন্য গত কয়েকদিন যাবত আমরা মিটিং করেছি। সিট বণ্টনের বিষয়ে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।’

‎‎আলোচনা শেষে ভিসি অফিস সংলগ্ন প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসুর উদ্যোগে হল সংসদসমূহ ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বিল্ডিংয়ের অব্যবস্থাপনা, হয়রানি, ফলো-আপ না করা, পারস্পরিক চেকআপ বা ক্রস চেক দেওয়ার সিস্টেম না থাকার কারণে কর্মকর্তারা অনুপস্থিত থাকেন, সময়মতো সেবা দেন না, বাইরে থাকেন, শিক্ষার্থীদের এক দিনের কাজ পাঁচ দিন লাগে। সামগ্রিক এই হয়রানিগুলো বন্ধ করার জন্য আমাদের প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার একটি কর্মসূচি ছিল। আমরা রেজিস্টারের কাছে গিয়েছিলাম, তাকে পাইনি। অনেক পরে তিনি এসেছেন।

‎এস এম ফরহাদ আরও বলেন, আমরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে সিট না পাওয়া নিয়ে ও দাবি জানাতে এসেছি। আমরা আগে থেকেই জানতাম এটা ঘটবে। তাই আমরা প্রায় পাঁচ মাস ধরে চেষ্টাগুলো করছি যাতে এ বছর এই জটিলতা না বাঁধে, আগেভাগে সমাধান হয়ে যায়, প্রশাসনকে আমরা ফরমালি, ইনফরমালি, মিটিংয়ে, ডিনস মিটিংয়ে,ডাকসুর পক্ষ থেকে প্রত্যেকটা হলে গিয়ে প্রভোস্টকে জানিয়েছি, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তাই আমরা বাধ্য হয়ে আজকে এসেছি।

‎আরও বলেন, আমাদের দাবি হলো সিট বণ্টনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকবে এবং সেই নীতিমালায় সেশন বাইন্ডিং (নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষ) থাকবে। যাতে হলে অবস্থানের জন্য একটা টাইম ফ্রেম থাকে, আবার সেশন শেষ করার সাথে সাথে সিট বাতিল হয়ে যাবে এবং যারা পাবে না সিট তাদের জন্য আবাসন বৃত্তি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আবাসন বৃত্তি কিংবা সিট ছাড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস জারি রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা টর্চারের মতো।

‎‎এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম নিজ অফিসে উপস্থিত সাংবাদিক ও ডাকসু নেতৃবৃন্দের বলেন, “তোমাদের সকলের কথা (দাবি) গুলো শুনেছি। আমি হল প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সাথে বসে খবর নিতে হবে। আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে কোথায় কয়টা সিট ফাঁকা আছে, কোন হলের কি অবস্থা এগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।