ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরিকল্পিত দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এটি গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। খবর রয়টার্সের।

মূলত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বাজারে এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধের মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য নিজের উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুন ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার আজ ৩ দশমিক ৩৩ ডলার বা ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। এটি টানা অষ্টম দিনের মতো মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড।

অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৩ দশমিক ৫৫ ডলার বা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৩ দশমিক ৪৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ সংকটের এই আশঙ্কা দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম খুব শিগগিরই ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বিশাল অংশ বিশ্ববাজারের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

তেলের বাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেই হঠাৎ করে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরে যাওয়ার ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিনের কোটা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমিরাত এই সিদ্ধান্ত নিলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান বাজারে দামের ওপর ওপেকের প্রভাবের চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও লজিস্টিক জটিলতাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ওপেকের সংহতি দুর্বল হওয়ার এই খবর তেলের দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

এদিকে, আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি গ্রাহকদের পারস্য উপসাগরের বাইরে থেকে তেল সংগ্রহের বিকল্প প্রস্তাব দিলেও তা চাহিদার তুলনায় সামান্য। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।