আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হওয়ার পথে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে যে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার দ্বিতীয় দফা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের মূল্যে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বৈশ্বিক তেলের মূল্যের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে এর দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৩৫ ডলার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতির তুলনায় তেলের দাম বর্তমানে প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে তেহরানের অনড় অবস্থানের পাশাপাশি হরমুজে চলাচলের ওপর অবরোধ জারির হুমকি তেলের সরবরাহ চেইনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা সত্ত্বেও এশিয়ার বড় শেয়ারবাজারগুলো আজ সোমবার সকালে ইতিবাচকভাবে লেনদেন শুরু করেছে।
বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে টোকিওতে লেনদেনের শুরুতে নিকেই২২৫ সূচক প্রায় ০.৪ শতাংশ বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কোসপি প্রায় ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম বাড়লেও বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আস্থা রাখছেন।
তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় বা যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রাখে, তবে তেলের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘এই মুহূর্তে বাজার কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে চলছে। যদি আলোচনা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার স্পর্শ করা কেবল সময়ের ব্যাপার।’
এদিকে তেলের এই লাগামহীন দাম বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।