স্টাফ রিপোর্টার
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল আবার চালু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে জাতীয় গ্রিডে ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপরও। অনেক এলাকায় কমেছে সিএনজি স্টেশনের দীর্ঘ লাইন এবং স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গ্যাসের চাপ।
পেট্রোবাংলার উপ-মহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন ও বিপণন) প্রকৌশলী মো. শহীদুল হক জানান , ‘মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালের মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে অবজারভেশন মোডে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আগে থেকেই সচল টার্মিনালটি থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং মেরামতের পর চালু হওয়া টার্মিনালটি থেকে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ‘কারিগরি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে সরবরাহ আরও বাড়ানো হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে খুব শিগগিরই টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গতকাল সচিবালয়ে বলেছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির সমাধান শেষে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বিকেল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। ফলে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
মন্ত্রী বলেন, সঞ্চালন শুরু হলে ধীরে ধীরে আমাদের যেখানে প্রেসার কমে গেছে, প্রেসারটা উন্নত হবে এবং মোটামুটি যে সমস্যার মধ্যে পড়েছি, সে সমস্যা উৎরে যেতে পারবো।
গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত দিন লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাভাবিক হতে দুই-তিন দিন তো লাগবে। মিনিমাম দুই-তিন দিন লাগবে। এটা (এফএসআরইউ) বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিল, তেমনই হবে।
গ্যাস সংকটের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে? এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে গ্যাস না থাকলে মানুষও পাবে না, আমার পাওয়ার স্টেশনও পাবে না। এখন আমার যে পাওয়ার স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো আবার চালু করবো।
বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল নিয়ে কথা হচ্ছে- এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ভূতুড়ে বিল, এটা যখন আমরা বলি, বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে আসে না কেউ আমাদের কাছে।
তিনি বলেন, জুন থেকে জুলাই, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছি আমরা। দুই নম্বর, মার্চ মাসে যে গরম ছিল, জুন মাসে সে গরম ছিল না। এখন আমরা কিছুদিন আগে আপনাদেরই এক সাংবাদিক ফেসবুকে দিয়েছিলেন যে তার বিল ছিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ৭ হাজার টাকা আসছে। আমার লোক যে, পরীক্ষা করে দেখে আসছে, উনি দুটি এসি চালান। উনার ফ্রিজ আছে। ব্লেন্ডার চালান উনি। এত কিছু চালানোর পরেও ৭ হাজার টাকা যদি বেশি বিদ্যুতের বিল হয়, আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও ৭ হাজার টাকা দিয়ে এরকম এত কিছু চালানো যায়?
গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় সিএনজি স্টেশনগুলোতেও পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয় । একটি পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক মো. ফখরুদ্দীন ইসলাম শিমুল বলেন, বুধবার রাত থেকে গাড়ির চাপ কিছুটা কমেছে। সংকটের সময় পাম্পে গ্যাসের চাপ ১৫০ থেকে ১৭০-এর মধ্যে ওঠানামা করছিল, যেখানে স্বাভাবিক রিডিং ২২০। চাপ কম থাকায় একটি গাড়িতে গ্যাস দিতে অনেক বেশি সময় লাগত। এখন আবার ২২০ রিডিং পাওয়া যাচ্ছে এবং গাড়ির লাইন প্রায় নেই বললেই চলে।’
আবাসিক গ্রাহকরাও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতির কথা জানিয়েছেন। অনেকে জানিয়েছেন ‘সকাল থেকে বাসায় মোটামুটি স্বাভাবিক গ্যাস পাচ্ছি। সকালে রান্নার কাজও ঠিকভাবে হয়েছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রীর সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের মিটিং :
বিদ্যুৎ মন্ত্রীর সাথে গতকাল ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে মিটিং হয়েছে। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে রুটিন মিটিং হয়েছে। যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের অনেক স্বার্থের ব্যাপার আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আগের মতো ডিজেল চেয়েছেন কি না ভারত থেকে? এ বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ভারতের সঙ্গে একটা পাইপলাইন আছে, সেখান থেকে ডিজেল আসে, তাদের বলেছি আরও বেশি দেওয়ার জন্য।
শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কি না? জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না, উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটা ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন উনি। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন।