- ১৭ দিনের ব্যবধানে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমেছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট
- মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহ কমেছে ৬৩ শতাংশ
- সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
- আবাসিক গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে
- বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সমস্যার কথা স্বীকার প্রতিমন্ত্রীর
কামাল উদ্দিন সুমন: দেশজুড়ে আবারো গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টার থাকছেনা বিদ্যুৎ। গ্যাস সংকট গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার থেকে আবারও সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গ্যাস-বিদ্যুতের জন্য এক রকম হাহাকার চলছে। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকায় হামলা আশংকা করে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছে ৮০ পল্লীবিদ্যুত সমিতি।
মাস খানেক ধরেই তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে সারাদেশ। মঙ্গলবার থেকে সংকট আরো তীব্র হয়েছে। গতকাল রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা মিলল সেই চিত্র। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস। ভাগ্য সহায় থাকলে কেউ কেউ গ্যাস পাচ্ছেন। তবে গ্যাসের চাপ কম থাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে মিলছে না। এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের অজুহাত, নাকি গ্যাস সংকট সৃষ্টির পেছনে অন্য কোনো চক্র, সেই প্রশ্নও তুলেছেন সাধারণ মানুষ। তীব্র ক্ষোভ-হতাশা উঠে এসেছে যানবাহনের চালকদের কণ্ঠে।
তবে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোতে কারিগরি ত্রুটি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতার তুলনায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৬৩ শতাংশ। এর প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে । শুধুমাত্র গ্যাসের চাহিদার তুলনায় চট্রগামেই সরবরাহ ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নগরীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি। ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরাও।
দেশে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল। চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ মূলত এই দুটি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল।
পল্লী এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে
এদিকে জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের পল্লী এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। ভোর ৪টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ১৮ মেগাওয়াট; লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় লোডশেডিং বেড়ে ৩ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সমস্যার কথা স্বীকার প্রতিমন্ত্রীর :
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা চরমে আছে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সন্ধ্যার দিক থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার ওপর কারও হাত নেই। বিগত সরকারের ভুল নীতির শিকার হচ্ছে বর্তমান সরকার।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না। এক্সিলারেট টার্মিনাল আংশিক সক্ষমতায় চলছে, পুরো সক্ষমতায় চালাতে হলে আবার প্রায় ৭২ ঘণ্টার জন্য টার্মিনালটি বন্ধ করা লাগবে। এটি বড় চ্যালেঞ্জ। এক্সিলারেট এনার্জির সাথে কথা বলছি। আজ দুপুরেও তাদের ঊর্ধ্বতনদের বৈঠক আছে। কোন সময়ে বন্ধ রাখলে সবচেয়ে কম জনদুর্ভোগ হবে সেটির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ব্যবসায়ীদের সাথেও আলোচনা চলছে।
প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, মানুষের ভোগান্তি চরমে, এটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সেকারণে বারবার জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে কারোই কিছু করার নেই। আমরা অসহায়, প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। প্রকৃতি স্বাভাবিক হলে গ্যাস খালাস করতে পারবো এবং সেক্ষেত্রে গ্যাস সাপ্লাই স্বাভাবিক হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস পর্যাপ্ত সাপ্লাই না দিতে পারলে পাওয়ার প্ল্যান্টে সংকট হবে। একটি কৌশল নেয়া হয়েছে, যেটি গতকাল সন্ধ্যা থেকে নেয়া হয়েছে। আশা করছি আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। মালয়েশিয়ার সাথে মিটিং করেছি, টিমও সেখানে গেছে। তাদের অফার নিয়ে কাজ চলছে। তাদের কাছ থেকে অন্তত এক কার্গো এলএনজি পাবো বলে আশা করছি। এটি মধ্যমেয়াদী সমাধান। হাতে যতগুলো বিকল্প আছে, সবগুলো নিয়ে কাজ করছি।
কারিগরি ত্রুটি ও বৈরী আবহাওয়ায় সরবরাহে ধাক্কা
পেট্রোবাংলার উৎপাদন ও বিপণন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মহেশখালীর দুটি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।
মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা ৬০০ এমএমসিএফডি এবং সামিট এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ বর্তমানে টার্মিনাল দুটির সরবরাহ তাদের পূর্ণ সক্ষমতার মাত্র ৩৭ শতাংশ।
পেট্রোবাংলার উপমহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন ও বিপণন) প্রকৌশলী মোহা. মাহমুদুল হাসান বলেন, এক্সিলারেট এনার্জির দুটি বয়লারের একটি বর্তমানে চালু রয়েছে। অন্যটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ আছে। মেরামতকাজ শেষ হলে দ্বিতীয় বয়লারও চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু এক্সিলারেটের কারিগরি সমস্যাই নয়, সামিটের টার্মিনালেও আবহাওয়াজনিত সমস্যা হচ্ছে। সেখানে একটি এলএনজি জাহাজ থাকলেও বাতাসের গতিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেটি নিরাপদে বার্থিং করতে পারছে না। ফলে জাহাজ থেকে এলএনজি আনলোডিং বা স্থানান্তরের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
আবহাওয়া ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে অপারেশন শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল প্রস্তুত রয়েছে। তবে জাহাজের অপারেশন শুরুর বিষয়টি পুরোপুরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এলএনজি সরবরাহও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা :
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে নগরীর সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। রাজধানীর একটি পেট্রোল পাম্পে বুধবার সকাল ১১টায় গাড়িচালক আকতার হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, সকাল ৮টা থেকে গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কয়েকদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার পর আবার মঙ্গলবার থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে।
পেট্রোল পাম্পের মালিকপক্ষের দাবী , গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত পাম্পে গ্যাসের চাপের রিডিং ২২০ থাকলেও বর্তমানে তা ১৫০ থেকে ১৭০-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে একটি গাড়িতে গ্যাস দিতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।
গত সোমবার রাত থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু সময় গ্যাস পাওয়া গেলেও আবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
সিএনজি চালক মোহাম্মদ শফিক বলেন, তিনি সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কখন গ্যাস দেওয়া হবে, তা জানেন না। গাড়ি বের করার কারণে তাকে দৈনিক ১ হাজার ১০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। ফলে আয় না করেও ভাড়া দেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছে।
আবাসিক গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আবাসিক গ্রাহকদের ওপরও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভুক্তভোগীরা বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার সঙ্গে নতুন করে গ্যাসের সমস্যাও যুক্ত হয়েছে। বাসায় ঠিকমতো গ্যাস না পাওয়ায় রান্নাবান্নায় সমস্যা হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সময়ের দৈনিক বুলেটিনের মতো গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে একটি ‘দৈনিক গ্যাস পরিস্থিতি বুলেটিন’ প্রকাশ করা প্রয়োজন।
তার মতে, ওই বুলেটিনে দেশের মোট গ্যাসের চাহিদা, প্রকৃত উৎপাদন ও সরবরাহ, মোট ঘাটতি, জাতীয় সরবরাহে এলএনজির অবদান এবং বিদ্যুৎ, শিল্প, সার ও আবাসিক খাতে খাতভিত্তিক বরাদ্দের তথ্য থাকা উচিত। পাশাপাশি কোন এলাকায় কত ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, গ্যাসের চাপ কত এবং সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনে কী প্রভাব পড়ছে, সেসব তথ্যও প্রকাশ করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
খন্দকার বেলায়েত হোসেন বলেন, পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, এলএনজি আমদানির অগ্রগতি, অতিরিক্ত আমদানি সক্ষমতা এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের তথ্যও নিয়মিত জানানো উচিত। এতে সংকটের প্রকৃত চিত্র বোঝার পাশাপাশি গুজব ও বিভ্রান্তি কমবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি বাড়বে।
গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর সেখানকার গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে ৬ আগস্ট একটি বয়লার চালুর মাধ্যমে আংশিকভাবে সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়। তবে দ্বিতীয় বয়লার এখনো মেরামতের আওতায় রয়েছে।
একই সময়ে সামিটের টার্মিনালে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি জাহাজ বার্থিং করতে না পারায় নতুন করে এলএনজি আনলোডিংও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে মহেশখালীর টার্মিনালগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে না পারায় এর প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শিল্প, পরিবহন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।
এদিকে পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার জন্য আমদানিকৃত জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। এতে ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকার প্রভাবও পড়েছে দেশজুড়ে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে বলে মনে করছে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলো।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাময়িক স্বস্তি ভেস্তে গেছে
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাময়িক স্বস্তি এসেছিল গত সোমবার। গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ার পাশাপাশি ভারতের আদানি থেকে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং কমে আসে। গত রোববার মধ্যরাতের পর জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সোমবার মধ্যরাতের পর তা ২ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। গত মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ছিল ১ হাজার থেকে ২ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। কিন্তু এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। বেলা ৩টার দিকে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াটে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান সংকটের একক কোনো সমাধান নেই। গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। দ্রুত ২-৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে যুক্ত করে গ্যাস অনুসন্ধান এবং পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনাময় স্তরকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন।
ড. ইজাজ হোসেন বলেন, তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি দরকার হলেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে। ২০৩০ সালে গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি হতে পারে।
জানা গেছে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন ধস কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। অগ্নিকান্ডে একটি এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার পর ১৭ দিনের ব্যবধানে দেশীয় উৎপাদন কমেছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। যে কারণে লোডশেডিং সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিপিডিবি।