স্টাফ রিপোর্টার

প্রতিটি ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগকে অনুসরণ করছে বিএনপি, যা তাদের নিজেদের পতনকেই ত্বরান্বিত করছে বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘অদম্য জুলাই’ স্মারকের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে নারীদের যে গতিশীল ভূমিকার সূচনা হয়েছে, তা এখনো শেষ হয়নি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি সুফিয়া জামাল। সময় তিনি বলেন, জুলাইয়ের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে ‘অদম্য জুলাই’ স্মারক প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাইকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতেও আরও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সুফিয়া জামাল আরও বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর ঢাকা মহানগরী উত্তর মহিলা বিভাগের এটি প্রথম স্মারক প্রকাশনা। ইতিহাস বিকৃতি রোধ এবং আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নি এমপি বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন বিলম্বিত করার কোনো সুযোগ নেই। জুলাইয়ের মূল স্পিরিট প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জনগণের অধিকার পূর্ণতা পাবে না।

সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম ‘অদম্য জুলাই’ স্মারক প্রকাশের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। সংসদ সদস্য নাজমুন নাহার নীলু বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাইয়ের স্বপ্নের কাছে পৌঁছাতে হবে।

এনসিপির সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ইতিহাস সংরক্ষণের এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং ‘অদম্য জুলাই’ স্মারকের সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া, ডাকসু নেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নাঈমা মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ওপর নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে স্মারকের সম্পাদকীয় পরিষদের পরিচিতি তুলে ধরেন আকলিমা ফেরদৌসী। ‘অদম্য জুলাই’ স্মারকের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন, ফটোসেশন ও শুভেচ্ছা কপি প্রদান করা হয়। পরে শিশুদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার ওপর নির্মিত আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।