# তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপচয় হচ্ছে শত শত কর্মঘণ্টা
# আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না : জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র
পজ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। এ সংকটে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কোনো নিশ্চয়তা। ফলে প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে শত শত কর্মঘণ্টা, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং স্থবির হয়ে পড়ছে নগরজীবনের গতি।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কৌশলে জ¦ালানি তেলের সংকট এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন স্তর থেকে বলা হচ্ছে জ¦ালানি তেলের সংকট নেই অথচ মানুষ জ¦ালানি তেল পাচ্ছে না। বলা হয়েছিল জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না যদিও এরই মধ্যে ফার্নেস অয়েল ও জেড ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র বলছে, ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ানোর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। মানুষের পকেট থেকেই কাটা যাবে বাড়তি দাম। বেড়ে যাবে নিত্যপণ্যসহ জিনিসপত্রের দাম। জেড ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়া, বিমান ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুন যার প্রভাব পড়েছে প্রবাসে যাতায়াতকারী মানুষের ওপর। এছাড়া একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) লো ফিডে চালু রাখা জ¦ালানি সংকটের প্রমাণ বহন করে চলেছে।
সূত্র মতে, সরকার জ¦ালানি তেলের সংকট রয়েছে একথা সরাসরি স্বীকার না করলেও সংকট সমাধানে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ কার্যত কোন কাজে আসছে না। পেট্রোলপাম্পে নজরদারী, প্রথমে তেল বিক্রিতে রেশনিং পরে বাতিল, অবৈধ তেলের মজুত রোধে অভিযান ও জরিমানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সময়সীমা নির্ধারণ, সর্বশেষ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিত না হয়ে কার্যক্রমে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার নিদের্শনা।
গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। কেউ আগের রাত থেকে, কেউ ভোর থেকে, আবার কেউ সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তবুও তেল পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।
জ্বালানি তেল বিতরণে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ বা ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একটি ইউনিক কিউআর কোড পাচ্ছেন, যা নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্পে স্ক্যান করে তেল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
জানা গেছে, ফুয়েল পাসধারী মোটরসাইকেল আরোহীরা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার জ্বালানি তেল নিতে পারছেন। তবে সাধারণ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল।
ভোরে ফজরের নামায শেষে মোটরসাইকেলে তেল নিতে বের হন চানখার পুল এলাকার মনির হোসেন । শাহবাগের একটি পাম্পে পৌঁছানোর আগেই দেখেন লাইনের শেষ প্রান্ত আজিজ সুপার মার্কেট ছাড়িয়ে পরীবাগ পর্যন্ত চলে গেছে। ডিপো থেকে তেলের গাড়ি না আসায় সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সরবরাহই শুরু হয়নি। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে তেল দেওয়া শুরু হলে তখনও তিনি লাইনে অপেক্ষমাণ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভোরে বের হয়েছিলাম কাজে যাব বলে, কিন্তু দুপুরেও যেতে পারব কি না জানি না। সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে গেছে।’
নীলক্ষেত, কাঁটাবন, ঢাকা কলেজ ও শাহবাগ এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক সড়ক আংশিক দখল হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
লালবাগের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। লাইনে দাঁড়িয়েছি। প্রচ- রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’
ঢাকা-গাজীপুর রুটের ভিআইপি পরিবহনের বাসচালক চাঁন মিয়া নীলক্ষেত মোড়ে বাস রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে তেল দেওয়া শুরু হবে বলেছে। তাই সিরিয়াল দিয়ে বসে আছি। সবসময় বাস চালাতে পারি না, তাই আয়ও কমে গেছে।’
ইস্কাটনের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সচালক জামাল উদ্দিন জানান, তেল সংকটে তারা মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে দূরের পথে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও সিএনজি গ্যাসেরও সংকট দেখা দিচ্ছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।
সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনজীবনে সৃষ্টি হয়েছে বহুমাত্রিক চাপ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কর্মঘণ্টা নষ্ট, পণ্য ও যাত্রী পরিবহন ব্যাহত, জরুরি যানবাহনও আটকে পড়ছে সড়কে, তীব্র যানজট, গরমে অসুস্থতা এবং ভোগান্তি চরমে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে জাতীয় উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাবে। পরিবহন খাতের ধীরগতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জ¦ালানি বিশেজ্ঞরা মনে করেন , ‘জ্বালানি সংকটের এই সমস্যা শুধু আমাদের দেশে নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। এখন জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়া একটি বড় উপায় যার মাধ্যমে কিছুটা হলেও স্বস্তি আসতে পারে। জ্বালানি ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধন করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া আর অন্য কোনো উপায় নেই। চলমান এই সংকটে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত করা অপরাধ। সরকারের আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। অবৈধভাবে মজুত করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করার কিছু অবৈধ ব্যবসায়ী আছে। এ ধরনের লোকজন সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা
দেশে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে সরকারি বিভিন্ন সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণে বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে বলা হয়েছে। যানবাহনের জ্বালানি সাশ্রয় করতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এই নির্দেশনা সংবলিত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় তেলের অপচয় কমানোর পাশাপাশি সরকারি কাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখা জরুরি।
এই লক্ষ্য অর্জনে বিভাগীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তাদের সশরীরে যাতায়াতের পরিবর্তে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে কোনো সভার আয়োজন করা যাবে না। বিশেষ করে যানবাহনের জ্বালানি সাশ্রয় করাকে এখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন করার জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না
জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না। দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন ডিজেল, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন পেট্রল এবং ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে জ্বালানি বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য দেন।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, প্রতিমাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়। এপ্রিল মাসেও করা হয়েছে। আগামী মাসে কেমন দাম হবে তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, পেট্রল পাম্পে অতিরিক্ত ভিড়-এই সমস্যা ঢাকার বাইরে নেই। ঢাকায় সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্যানিক বায়িংয়ের প্রয়োজন নেই। গত বছর একই সময়ে যে তেল পেট্রল পাম্পগুলোতে দেওয়া হয়েছে, এ বছরও পরিমাণের তেল দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ কোনোভাবেই কমানো হচ্ছে না। এতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না।
শিল্প কারখানার ডিজেলে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তালিকা ধরে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারিভাবে ১৪ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মার্চ ও এপ্রিল মাসে ক্রুড অয়েল আনতে পারেনি সরকার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এপ্রিল বা মে মাসের শুরুতে সৌদি আরব থেকে ভিন্ন রুটে ক্রুড অয়েল আসবে। তিনি আরও বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি পরিশোধন করা হয়, যা মোট জ্বালানি চাহিদার এক পঞ্চমাংশ।
‘প্যানিক বায়িং’ করতে থাকলে জ্বালানি তেলের সংকট হবে
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, একই বাইক বারবার যাচ্ছে, তেল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপচে পড়ছে, এরকম নানান ঘটনা তো আসলে আছে। আমি আবারও সবার প্রতি আহ্বান জানাব, আমাদের সংকট আছে; কিন্তু আমরা যদি এ ধরনের ‘প্যানিক বায়িং’ করতে থাকি, তাহলে এটি সংকটে রূপ নেবে। বুধবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দাম আসলে বাড়বে কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে আপনারা খেয়াল করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। আবার আমরা দেখছি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান অবস্থা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো ব্লক করে দিচ্ছে। এটি যদি কার্যকর হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তবে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন আমাদের পক্ষে দীর্ঘ সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করব না বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছি। যদি পরিস্থিতি এমন থাকে, তবে দামের কিছু সমন্বয় (অ্যাডজাস্টমেন্ট) প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি, প্রয়োজন হতে পারে; মানে এটি হবেই, এমন নয়।
তিনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব একটা প্রেডিক্টেবল (পূর্বাভাসযোগ্য) নন। যদি তাদের মধ্যে আলোচনা হয়ে একটি চুক্তি হয়ে যায়, তবে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
ডিজেল-জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দরে সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজে জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) এবং মালয়েশিয়া থেকে দুটি জাহাজে করে ডিজেল এসেছে। এসব জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানায়, এমটি গ্রেট প্রিন্সেস জাহাজটি মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ডলফিন জেটি-৬-এ জ্বালানি খালাস করছে। জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল নিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী এমটি লুসিয়া সোলিস জাহাজটি ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে রওনা দিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজটিতে প্রায় ৩৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল রয়েছে। বর্তমানে লাইটারেজ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি খালাস চলছে এবং আজ বুধবার দুপুরে এটি ডলফিন জেটি-৫-এ ভেড়ার কথা রয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সীমিত সক্ষমতায় চললেও জ্বালানির সঙ্কট হবে না : মন্ত্রণালয়
যুদ্ধজনিত কারণে ক্রুড অয়েল আমদানিতে বিঘœ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সীমিত সক্ষমতায় (লো-ফিডে) চালু রয়েছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে সরকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি জোরদার করায় দেশে জ্বালানির কোনো সঙ্কট হবে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইআরএল মূলত সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে পরিশোধন করে থাকে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল উৎপাদন হয়, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে নির্ধারিত মোট তিন লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যাহত হয়েছে। মার্চ মাসে নির্ধারিত এক লাখ টনের একটি এরাবিয়ান লাইট ক্রুড কার্গো লোড সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারেনি এবং বর্তমানে রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। একই মাসে নির্ধারিত মারবান ক্রুডের (এক লাখ টন) দ্বিতীয় চালানের ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করা হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারিত এক লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড কার্গো ২০ এপ্রিল লোডিং শেষে বিকল্প রুট ব্যবহার করে আগামী ২ থেকে ৩ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মে মাসে এক লাখ টন মারবান ক্রুডের পাশাপাশি অতিরিক্ত এক লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরো এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে নির্ধারিত ক্রুড অয়েল সময়মতো না পৌঁছানোয় ইআরএলকে ‘লো-ফিড’ অবস্থায় চালু রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চারটি ইউনিটের মধ্যে দু’টি রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও বাকি দু’টি ইউনিট চালু রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি জোরদার করেছে। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহে কোনো ঘাটতি না হয়।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্রুড অয়েল সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে এবং এ নিয়ে জনমনে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।