জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আর্কটিক অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের বরফ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে আগে যে এলাকাগুলো বরফে ঢাকা থাকায় তিমিদের জন্য দুর্গম ছিল, এখন সেখানে হাম্পব্যাক, মিঙ্কি ও ফিন হোয়েলের মতো বিশাল আকারের তিমির দল গ্রীষ্মকালে খাদ্য সংগ্রহের জন্য ভিড় করছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানে এক বিশাল পরিবর্তন বা 'ইকোলজিক্যাল রেজিম শিফট' ঘটছে।

দীর্ঘ কয়েক দশকের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষকরা জানিয়েছেন, সামুদ্রিক বরফ গলে যাওয়ার কারণে বিশাল জলরাশি এখন তিমিদের জন্য নতুন চারণভূমি হয়ে উঠেছে। গ্রিনল্যান্ড ইনস্টিটিউট অফ ন্যাচারাল রিসোর্সেসের অধ্যাপক ম্যাডস পিটার হেইড-জর্গেনসেনের নেতৃত্বাধীন এই গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৬ সাল পর্যন্ত ওই এলাকায় কোনো হাম্পব্যাক তিমির দেখা পাওয়া যায়নি। অথচ ২০২৪ সালের গ্রীষ্ম নাগাদ সেখানে প্রায় ৪,০০০ হাম্পব্যাক, ৬,০০০ ফিন এবং ৬,০০০ মিঙ্কি হোয়েলের বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষকরা এই তথ্য সংগ্রহের জন্য আকাশপথে জরিপ, ১৫টি তিমিকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ট্র্যাকিং এবং স্থানীয় ইনুইট শিকারিদের অভিজ্ঞতার সাহায্য নিয়েছেন। তাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, গ্রীষ্মের এই মৌসুমে এই তিমিরা প্রায় ৮,০০,০০০ টন মাছ ও ক্রিল খেয়ে থাকে। যেখানে তিমিরা উষ্ণ পানির সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, সেখানে নারহোয়াল (narwhals) ও বেলুগার মতো প্রথাগত আর্কটিক প্রজাতির প্রাণীরা তাদের আবাসস্থল হারিয়ে সংকটে পড়ছে।

গ্রিনল্যান্ডের এই পরিবর্তন প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য সরাসরি হুমকি। তিমিদের এই স্থানান্তর কেবল সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের পরিবর্তনেরই প্রতীক নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন কতটা দ্রুত পৃথিবীর মানচিত্র ও প্রাণবৈচিত্র্যকে বদলে দিচ্ছে। মেরু অঞ্চলের এই 'ইকোলজিক্যাল শিফট' বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতি ও মৎস্য সম্পদের ওপর।

সূত্র: বিবিসি

ডিএস-এমএএইচ