নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে একের পর এক বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। খাল পুনঃখনন, খাল সম্প্রসারণ, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, স্লুইসগেট ও টাইডাল রেগুলেটর স্থাপন, ড্রেন নির্মাণ, খালের পাশে সড়ক নির্মাণ-- সব মিলিয়ে গত প্রায় এক দশকে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চারটি প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। অথচ ভারী বৃষ্টি হলেই চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো আবারও পানির নিচে চলে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে-এত টাকা খরচের পরও কেন জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না? সমস্যা কি শুধু খাল-নালা পরিষ্কার না থাকার কারণে, নাকি প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা, বাস্তবায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মধ্যেই রয়েছে বড় ধরনের দুর্বলতা? ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরের প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, জিইসি, বহদ্দারহাট, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। জুলাইয়েও ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নগরের নি¤œাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ৭ জুলাই পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।

১৪ হাজার কোটি টাকার চার প্রকল্প

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে তিনটি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে চারটি বড় প্রকল্পের কাজ হয়েছে বা চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ২০১৭ সালে অনুমোদিত সিডিএর ‘চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদও বারবার বাড়ানো হয়েছে। সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলীর সঙ্গে সংযুক্ত ১৬টি এবং এসবের সঙ্গে যুক্ত আরও ২০টি-মোট ৩৬টি খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কথা রয়েছে। পাশাপাশি খালের পাড় ঘেঁষে সড়ক, ৪৮টি পিসি গার্ডার ব্রিজ, ছয়টি কালভার্ট, পাঁচটি টাইডাল রেগুলেটর, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপ এবং তিনটি বন্যা সংরক্ষণ জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে; আরও পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ এবং হিজড়া খালের কাজ ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পের বড় একটি অংশ শেষ হওয়ার পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-যদি অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়ে থাকে, তাহলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই কেন নগরের বড় অংশে পানি জমে?

প্রকল্প শেষ, কিন্তু জলাবদ্ধতা কেন শেষ নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসন শুধু খাল খনন বা ড্রেন নির্মাণের বিষয় নয়। একটি এলাকার পানি কোথা থেকে আসছে, কোন নালা দিয়ে খালে যাচ্ছে, খাল থেকে কোন প্রবাহপথে কর্ণফুলীতে যাচ্ছে, জোয়ারের সময় নদীর পানি কোথায় ওঠে যাচ্ছে-পুরো পানিপ্রবাহকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত জরিপ ও পরিকল্পনার দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে। একটি বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদও মূল তিন বছরের পরিবর্তে প্রায় ১১ বছরে গড়িয়েছে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া সিডিএর প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে শুধু সময় বাড়েনি, বেড়েছে ব্যয়ও। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় একদিকে নগরবাসী প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না, অন্যদিকে প্রকল্পের ব্যয়ও ক্রমে বাড়ছে।

খাল আছে, কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা কমছে

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে খালের নাব্য ও ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া। ২০২৬ সালের জুনে চসিকের উপস্থাপিত এক সমীক্ষায় বলা হয়, নগরের খালগুলোর তলদেশে ০.৮ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত পলি জমেছে, যার ফলে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। ওই সমীক্ষায় বর্ষায় প্রায় ৩২০ হেক্টর এলাকা জলাবদ্ধ হওয়ার তথ্যও উঠে আসে। অর্থাৎ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন করলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে আবারও পলি, বর্জ্য ও মাটি জমে খালের গভীরতা কমে যায়। তখন নতুন করে খননের প্রয়োজন পড়ে। এখানেই বড় প্রশ্ন- একটি খাল খননের পর সেটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে কত টাকা প্রয়োজন এবং সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে?

৩৬ খালের পর আরও ২১ খাল

সমস্যার আরেকটি দিক হলো-নগরের সব খাল বড় প্রকল্পের আওতায় নেই। চট্টগ্রাম নগরে মোট ৫৭টি খাল রয়েছে বলে বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিডিএর বড় প্রকল্পে ৩৬টি খাল রয়েছে। বাকি খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য চসিক নতুন প্রকল্প নিতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালে চসিক ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকার দুটি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে। এর একটি চলমান বড় প্রকল্পের ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবং অন্যটি প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১টি খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের জন্য। এখানেই নগরবাসীর স্বাভাবিক প্রশ্ন-যে ৩৬টি খাল নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলছে, সেই খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা কেন আগে থেকেই নিশ্চিত করা হলো না? যদি প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খাল পরিষ্কার রাখতে আবার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিতে হয়, তাহলে মূল প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

খাল দখল ও বর্জ্য: প্রকল্পের বড় বাধা : খাল পুনঃখনন করলেই পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত হয় না। খালের জায়গা দখল, অননুমোদিত জলাধার ভরাট, ক্রস-কালভার্ট বন্ধ থাকা, নির্মাণসামগ্রী ও মাটি ফেলা এবং খালে বর্জ্য ফেলার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জুলাইয়ে ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের চিহ্নিত কারণগুলোর মধ্যে অননুমোদিত জলাধার ভরাট, খাল-নালা দখল, সড়ক উঁচু না করা এবং ক্রস-কালভার্ট বন্ধ থাকার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। অর্থাৎ একদিকে খাল প্রশস্ত করা হচ্ছে, অন্যদিকে খালের উজানে কোনো একটি অংশ দখল বা ভরাট হয়ে থাকলে পানি সেই সংকীর্ণ অংশে আটকে যাচ্ছে। ফলে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই পানি রাস্তায় উঠে আসছে।

ড্রেন বড় হলেই কি সমাধান হবে

জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো ড্রেনের সক্ষমতা। একটি এলাকায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে, সেই পানি নির্দিষ্ট সময়ে বহন করার মতো ড্রেনের ধারণক্ষমতা আছে কি না-তা হিসাব করা জরুরি। একই সঙ্গে খালের পানি ধারণক্ষমতা, কর্ণফুলীর জোয়ারের উচ্চতা এবং পানি নিষ্কাশনের সময়-সবকিছু হিসাব করতে হয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ৩৩০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির পর সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ওই পরিমাণ পানি তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্কাশনের সক্ষমতা সব নালা-ড্রেনের নেই। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানও জটিল। নগরের কিছু নি¤œাঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় খুব বেশি উঁচু নয়। জোয়ারের সময় কর্ণফুলীর পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রে নগরের পানি নদীতে স্বাভাবিকভাবে নামতে পারে না। ফলে শুধু ড্রেন নির্মাণ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

একাধিক সংস্থা, কিন্তু সমন্বয় কোথায়

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ একাধিক সংস্থা যুক্ত। প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা প্রকল্প, আলাদা বাজেট ও আলাদা বাস্তবায়ন কাঠামো। এই বহুসংস্থার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি দীর্ঘদিনের অভিযোগ। ২০২৬ সালের এপ্রিলের জলাবদ্ধতার পর সরকার ১৯ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে দেওয়া হয় চসিক মেয়রকে। কমিটির উদ্দেশ্য ছিল খাল ও ড্রেনগুলো সারা বছর সচল রাখা এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা। এতে স্পষ্ট যে, এতদিনের প্রকল্পগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সমন্বিত রক্ষণাবেক্ষণ কাঠামো যথেষ্ট কার্যকর ছিল না।

প্রকল্পের টাকা বনাম বাস্তব সুফল

জলাবদ্ধতা নিরসনের চার প্রকল্পে ব্যয় ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি হলেও নগরবাসী এখনো পুরোপুরি জলাবদ্ধতামুক্ত হতে পারেননি। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত শুধু ‘কত টাকা খরচ হয়েছে’ তা নয়; বরং টাকার বিনিময়ে কী কাজ হয়েছে এবং সেই কাজের ফল কী-তা যাচাই করা।

একদিকে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে, অন্যদিকে একই জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় নতুন করে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। চসিকের প্রস্তাবিত ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকার নতুন দুই প্রকল্পের অন্যতম যুক্তি হচ্ছে-চলমান প্রকল্পের আওতায় থাকা খালগুলো ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ করতে চসিকের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও আর্থিক সক্ষমতা নেই।

একটি প্রকল্পের পরিকল্পনার সময় তার পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের অর্থ, জনবল ও যন্ত্রপাতি কেন নিশ্চিত করা হয়নি? যদি প্রতিটি বড় প্রকল্পের পর আবার নতুন প্রকল্পের প্রয়োজন হয়, তাহলে নগরবাসীর অর্থের বিনিময়ে টেকসই সমাধান কতটা হচ্ছে-সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হলে চারটি জায়গায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দখল ও দূষণ বন্ধ।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এখন আর শুধু বর্ষাকালের প্রাকৃতিক দুর্ভোগ নয়; এটি নগর পরিকল্পনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, খাল দখল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ সক্ষমতা, জোয়ার-ভাটা এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয়ের সম্মিলিত সংকট। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে অবকাঠামো নির্মাণের পরও যদি ভারী বৃষ্টিতে মানুষ কোমরপানিতে আটকে থাকে, তাহলে শুধু নতুন প্রকল্প ঘোষণা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন হলো-আগের প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ অডিট, খালভিত্তিক পানি প্রবাহের স্বাধীন কারিগরি সমীক্ষা, প্রকল্পের কাজ ও ব্যয়ের জনসম্মুখে প্রকাশ, খাল-জলাধার দখলমুক্ত করা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থায়ী অর্থ ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। কারণ চট্টগ্রামবাসীর এখন আর নতুন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি নয়-তারা জানতে চায়, এত টাকা খরচের পরও তাদের ঘর, দোকান ও সড়ক কেন পানির নিচে যায়।

বিশেষজ্ঞের মতে জলাবদ্ধতা নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি ফারুক আহম্মেদ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তাতে নগরবাসী সুফল পাচ্ছেন-এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। নগরের অনেক এলাকায় এখন আগের মতো জলাবদ্ধতা হচ্ছে না। তবে বর্তমানে ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, সেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা উচিত ছিল। বর্ষার সময় খাল, ড্রেন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর নির্মাণকাজ চলতে থাকলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কাজ বন্ধ রাখা হলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হতো না এবং সাধারণ মানুষকেও এতটা দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

ফারুক আহম্মেদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমকে বিবেচনায় নিয়ে কাজের সময়সূচি নির্ধারণ করা জরুরি। বিশেষ করে বর্ষার আগে খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করে তারপর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হলে নগরবাসীর দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। তাই চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।