রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে রাশিয়া তাদের ‘শেষ বিকল্প’ বেছে নিতে বাধ্য হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, সংঘাতের পরিধি ও হামলার লক্ষ্যবস্তু ক্রমাগত বাড়ছে, যা মস্কোকে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করতে পারে।

সংঘাত শেষ পর্যন্ত রাশিয়াকে তাদের ‘শেষ বিকল্প’ ব্যবহারে বাধ্য করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফিদান জানান, ধ্বংসাত্মক এই যুদ্ধ আরও বাড়লে মস্কো তাদের হাতে থাকা সর্বশেষ বিকল্পটি ব্যবহার করতে পারে। আনাদোলুর এডিটর্স ডেস্ক প্রোগ্রামে তিনি জানান, রুশ সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনার সময়ও বিষয়টি উঠে এসেছে এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই বিপদ সম্পর্কে অবগত।

রাশিয়া সফরের সময় রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপনের কাছাকাছি চলে এসেছিল উল্লেখ করে ফিদান বলেন, ‘জনগণ এখন এমন কিছুই দাবি করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পশ্চিমাদেরও বিষয়টি বলেছি এবং তারা এটি জানে।’

এটি একটি বড় বিপদ উল্লেখ করে যুদ্ধ থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যা ঘটবে না বলে বলা হয়েছিল, তার সবই ঘটছে।’ তিনি জানান, সংঘাতটি ভৌগোলিক দিক থেকে এবং লক্ষ্যবস্তু ও পদ্ধতির দিক থেকে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বেসামরিক এলাকায় যুদ্ধের বিস্তার নিয়েও কথা বলেন ফিদান। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারীদের মতে, যুদ্ধরত পক্ষগুলো যতদিন মনে করবে তাদের হাতে সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, ততদিন তারা ছাড় দেওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেবে না। তিনি জানান, উভয় পক্ষ ছাড় দিয়ে একটি মাঝামাঝি অবস্থানে পৌঁছালে মধ্যস্থতাকারীদের কাজ সহজ হতো।

ফিদান বলেন, ‘কিন্তু যেখানে কেউ ছাড় দেয় না, সেখানে যুদ্ধ ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সঙ্গে চলতে থাকে, যতক্ষণ না এটি ছাড় দেওয়ার নিজস্ব ক্ষেত্র তৈরি করে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা এখন এটাই দেখছি।’

ফিদান জানান, শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার আগে উভয় পক্ষ একে অপরকে পুরোপুরি নিঃশেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি জানান, যখন আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, তখন সংঘাতটি একটি ‘সম্মুখসারির ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছিল। ওই সময় সম্মুখসারির সেনারা উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ড্রোন ও আর্টিলারি দিয়ে একে অপরকে হত্যা করছিল এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমাগত অর্থ ও সেনা পাঠানো হচ্ছিল।

ফিদান বলেন, ‘এই ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের সবচেয়ে অনুকূল সময়ে যখন আমরা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসি, তখন আপসের একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এরপর পক্ষগুলো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি, কারণ দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়া যে ভূখণ্ড দখল করতে পারত, তা তারা নিতে পারেনি।’

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ একটি ‘ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে’ রূপ নেয়, যা বেসামরিক এলাকাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করে বলে জানান ফিদান।

তিনি বলেন, ‘যখন এই ধ্বংসযজ্ঞ ও সম্মুখসারির ক্ষয়িষ্ণুতা পেছনের সারিতেও ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিষয়টি আর যুদ্ধে জয়-পরাজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি একটি জাতি হিসেবে টিকে থাকার প্রশ্নে পরিণত হয়। তখন আপনার হাতে থাকা যেকোনো চূড়ান্ত উপায় আপনি ব্যবহার করবেন।’

তিনি জানান, এই সংঘাত নিয়ে ইউরোপ, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের ধারণা ও মূল্যায়ন ভিন্ন। যুদ্ধ শেষ করাটাই অন্য সব স্বার্থের ঊর্ধ্বে—এই নীতিটি এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফিদান আরও জানান, কিছু পক্ষ মনে করে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শেষ করলে তা চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হবে। আর এ কারণেই তারা সংঘাতের অবসান ঘটাতে অনিচ্ছুক।