যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের 'অতিরিক্ত দাবি' এবং চলমান 'নৌ-অবরোধ' বজায় থাকা অবস্থায় কোনো ফলহীন আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ তাদের নেই। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট চলতি সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠাতে চান।

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার কোনো আলোচনায় অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে ইরান। সোমবার (২০ এপ্রিল) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের 'অযৌক্তিক দাবি' এবং 'অসংলগ্ন আচরণের' কারণে সংলাপের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ ও আইআরএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে বসেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বাঘেই অভিযোগ করেন, গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছে। তিনি বলেন, "অবরোধ চলাকালীন এবং ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবির মুখে কোনো ফলহীন আলোচনায় সময় নষ্ট করার ইচ্ছা আমাদের নেই।"

এর আগে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তান ব্যাপক প্রস্তুতি নিলেও ইরানের এই অনড় অবস্থানের কারণে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানকেও তাদের এই অসম্মতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

এদিকে, আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে অভিযান চালিয়ে 'জলদস্যুতা' চালাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহের এই প্রধান পথটি বন্ধ রাখা হতে পারে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় ইরানের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দিয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বললেও, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, ইরানই আলোচনার শর্ত ভঙ্গ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। বিশেষ করে ২২ এপ্রিল বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় অঞ্চলটি আবারও এক অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।