ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৪০ বছর বয়সী নারী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেমিকা আগরওয়াল। রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) গাজিয়াবাদের রাজ নগর এক্সটেনশন এলাকার একটি আবাসন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ মাস আগে ডা. হেমিকা আগরওয়ালের বিচ্ছেদ হয়েছিল। বিচ্ছেদের পর থেকেই তিনি তীব্র মানসিক চাপ ও বিষণ্নতায় (ডিপ্রেশন) ভুগছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

গাজিয়াবাদ পুলিশের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার রাজ নগর এক্সটেনশন এলাকার ‘অফিসার্স সিটি-২’ হাউজিং সোসাইটির পঞ্চম তলার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন ডা. হেমিকা। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার পর থেকেই তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছিল।

ডা. হেমিকার বাবা ড. আর চন্দ্র নিজেও গাজিয়াবাদের একজন প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি পুলিশকে জানান, ১৮ মাস আগে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে তাঁর মেয়ে ক্রমাগত মানসিক চাপ ও গভীর বিষণ্নতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

ঘটনার পরপরই আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য রেকর্ড করছে। তবে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কোনো আত্মহত্যার নোট উদ্ধার করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি তবে তারা ধারণা করছে তিনি আত্মহ’ত্যা করেছেন।