যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানি আইনপ্রণেতা কামরান ঘাজানফারি। তিনি বলেছেন, তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিছু দ্বীপ দখল করতে পারে মার্কিনি ও ইসরাইলী সেনারা। এ লক্ষ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে বহু সেনা ও সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে তারা। কামরান ঘাজানফারি রাষ্ট্রয়াত্ত্ব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রমাণ ও বিভিন্ন ইঙ্গিত দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা সম্ভবত আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। সেখানে তারা বহু সেনা ও সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল, ফার্স নিউজ এজেন্সি
গত ২৮ ফেব্রয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর টানা ৪০দিন যুদ্ধ চলে। এ সময় ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। তারা ইসরায়েলে হামলার পাশাপাশি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামোকেও টার্গেট করে।
এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রথমে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। যা গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য এটির মেয়াদ বাড়ান। যা এখন পযন্ত চলছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যে দুই দেশ আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এতে করে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর শঙ্ক প্রথম থেকেই রয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালিতে চীনের জাহাজ চলাচলে আংশিক ছাড় দিল ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কিছু চীনা জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে চীনা জাহাজগুলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।ইরানের একটি সূত্র জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তেহরানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের অনুরোধের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বাস্তবে এতে পরিস্থিতি কতটা বদলাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ যুদ্ধের সময় ইরান আগেই জানিয়েছিল, সমন্বয় করে চললে নিরপেক্ষ—বিশেষ করে চীনা জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে। এদিকে চীন সফরে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একমত হয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি জ্বালানি পরিবহনের জন্য খোলা রাখা জরুরি। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়, তাই এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। পরে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানী বন্দর অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘায়িত করে।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি চীনা সুপার ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে দুই মাসের বেশি সময় উপসাগরে আটকে ছিল। নতুন এই পদক্ষেপে জ¦ালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কিছু আশা দেখছেন বিশ্লেষকরা।