২৫ তম 'চাইনিজ ব্রিজ'- চীনা ভাষা দক্ষতা প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তাসমিয়া রহমান চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন । প্রথম রানারআপ হন একই বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনা তুন তাইয়েবা।গতকাল ১৪ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যাক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

লাল-সোনালী সাজে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন অ্যান্ড কো-অপারেশন’ এবং ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং শান্ত-মারিয়াম হোংহ্য কনফুসিয়াস ক্লাসরুম।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাও ফং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরীদ উদ্দিন খান সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

বাংলাদেশের নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি দুই দেশের মানুষের হৃদয়ের সেতুবন্ধন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের বিভাজন, সাংস্কৃতিক দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভাষা শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণরাই আগামী বিশ্বের নির্মাতা। ভাষার মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব গড়ে তুলে তারা আরও সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ৮০টিরও বেশি দেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে চীনা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ কোটি মানুষ চীনা ভাষা শিখছেন বা ব্যবহার করছেন, যাদের বড় অংশ তরুণ প্রজন্ম। আজকের প্রতিযোগীরা শুধু বিজয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না, বরং ভাষা, সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বের এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে বিরাজমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, আজকের অংশগ্রহণকারীরা শুধু ভাষা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন না, বরং প্রত্যেকেই তরুণ সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে কাজ করছেন।

এদিকে, প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তাসমিয়া রহমান বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে চীনে অনুষ্ঠেয় ‘চাইনিজ ব্রিজ’-এর বৈশ্বিক চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করবেন ।