যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকর রাখতে ইরান দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল সম্ভবত আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। মিডল ইস্ট মনিটর, এএফপি, আল-জাজিরা, এপি, ডয়েচে ভেলে, বিবিসি, আনাদুলো নিউজ, রয়টার্স।

যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা ইরানের

যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকর রাখতে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

সংস্থাটি জানায়, নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হবে, ট্রানজিট সনদ দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সেবা ফি আদায় করা হবে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে সোমবার দ্বিতীয় দফার আলোচনা হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সম্ভবত আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার পাকিস্তান সরকারের সূত্রগুলো আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে এমন তথ্য জানিয়েছে। দুই পক্ষের কারিগরি দল ‘খুব সম্ভবত সোমবার’ ইসলামাবাদে মিলিত হবে। তাদের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী চলা সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান চূড়ান্ত করা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা একবার চুক্তির খসড়া তৈরি করে ফেললে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধান চুক্তি সই করতে ইসলামাবাদে উড়ে আসবেন।কয়েকটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি আঞ্চলিক আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।সূত্রগুলো আরও জানায়, ১১–১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকের পর থেকেই বিবদমান দুই পক্ষ ইসলামাবাদের মাধ্যমে একে অপরের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার আগেই তারা একটি ‘সর্বোচ্চ বোঝাপড়ায়’ পৌঁছাতে চাইছে।

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে গুলি

হরমুজ প্রণালীতে একটি ট্যাংকারে গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বৃটিশ সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। এই সংস্থাটি বলছে, তারা খবর পেয়েছে একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। দুটি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, গানবোটগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ‘সম্পৃক্ত’। ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন বলেছেন, গানবোট থেকে কোনো হুঁশিয়ারি বার্তা ছাড়াই গুলি চালিয়েছে। তবে গুলিতে জাহাজের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, ক্রু সদস্যরা নিরাপদে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির জন্য ‘খুব জোরালোভাবে’ কাজ করছে মিশর ও পাকিস্তান

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করার জন্য মিশর ও পাকিস্তান ‘খুব জোরালোভাবে’ কাজ করছে।তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি করতে পারব।’ আবদেলাত্তি বলেন, ‘শুধু আমাদের অঞ্চলেই নয় বরং পুরো বিশ্বই এই যুদ্ধের কারণে ভুগছে।’

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আবারো হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জার্মান সংবাদ সংস্থা । স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। পুরো প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে, আগের মতোই।’

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের কারণে প্রণালীটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর শুক্রবার আবার খোলা হয়।

চুক্তি না হলে বুধবার থেকেই ইরানে

আবার হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আগামী বুধবারের মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি কোনো চুক্তি না হলে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে দুই দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াব না। তবে একদিকে অবরোধ থাকবে, অন্যদিকে দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আবারও বোমা হামলা শুরু করতে হবে।’