মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার দিকে যখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কড়া নজর, ঠিক তখনই গাজা উপত্যকায় পরিকল্পিতভাবে ‘দুর্ভীক্ষনীতি’ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্লেষকদের মতে, বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় গাজার মানবিক সংকট বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে অনেকটা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। এই সুযোগে উপত্যকাটিতে ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে বাধা এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ফলে সেখানে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশের পথগুলো সংকুচিত হয়ে আসায় সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ইরান-ইসরায়েল ইস্যুটি সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম দখল করে নেওয়ায় গাজার এই জীবনমরণ সমস্যাটি আন্তর্জাতিক চাপের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো দাবি করছে যে, যুদ্ধের কৌশল হিসেবে খাদ্যকে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি গাজার যুদ্ধবিরতি আলোচনাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, যদি এখনই গাজার দিকে মনোযোগ ফেরানো না হয়, তবে এই নীরব দুর্ভিক্ষ অদূর ভবিষ্যতে এক অপূরণীয় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। গাজার স্থানীয় কৃষি ও বাজার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বহিরাগত ত্রাণের ওপর নির্ভরশীলতা এখন শতভাগ, যা রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে বর্তমানে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা