মিডল ইস্ট আই
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতে তীব্র এলপিজি (তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিল্লি, মুম্বাই ও গুজরাটের মতো বড় শহরগুলো থেকে লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক গ্রামে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। ভারত এলপিজির প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে। যার ৯০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই পথ রুদ্ধ হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
দিল্লির একটি স্যানিটারি কারখানায় কাজ করতেন ৩০ বছর বয়সী রাজ কুমার। কারখানা বন্ধ হওয়ায় ৪০ জন সহকর্মীসহ শহর ছাড়ছেন তিনি। চার সদস্যের সংসার নিয়ে উত্তরপ্রদেশের মহুয়া গ্রামে ফিরে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘এখানে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। আমরা ঠিকমতো খেতেই পারছি না। বাচ্চাদের ও স্ত্রীকে কষ্ট পেতে দেখার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’ রাজস্থানের ভিওয়ান্ডিতে একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন ২২ বছর বয়সী চন্দন। তিনি জানান, এলপিজির দাম এত বেড়েছে যে বিয়ের জন্য জমানো সব টাকা শেষ। চন্দন বলেন, ‘আমি দিনে ৫০০ রুপি আয় করি, আর এক কেজি গ্যাস কিনতে খরচ হয় ৪০০ রুপি। রাস্তার ধারের খাবারের দোকানেও দাম তিনগুণ বেড়ে গেছে।’ ভারত সরকার শ্রমিকদের শহর ছাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও নয়া দিল্লি ও আনন্দ বিহার রেলস্টেশনে ঘরে ফেরা মানুষের দীর্ঘ লাইন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিহারের পূর্ণিয়াগামী ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা ২১ বছর বয়সী সিন্টু কুমার ভগত জানান, দ্বিগুণ দামে টিকিট কাটতে হয়েছে তাকে। ঝাড়খ-ের অশোক কুমার চৌধুরী লোহার কারখানায় কাজ হারিয়ে খালি হাতে ফিরছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে, এ যেন অভিশাপের মতো।’