নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নেপালকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক শোকবার্তায় এই সংহতি ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে বাংলাদেশের জনগণ মর্মাহত ও শোকাহত। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশ গভীরভাবে নজর রাখছে। এতে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও সুস্থতা কামনা করা হয়।

ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সংলগ্ন হিমালয় সীমান্ত এলাকায় কাদামাটি ও পাথরের বিশাল পাহাড় ধসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এছাড়া কয়েকশ পর্যটক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্ত এলাকায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পানির তীব্র স্রোতে বহু মানুষ ভেসে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার আঘাতে নেপালের বিস্তৃত এলাকার বাড়িঘর, সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি তিব্বতের গাইরং কাউন্টির একটি সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রে ভূমিধস হয়েছে। এতে বহু স্থানীয় মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যে নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, ৩ জন মার্কিন ও ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, তাদেরও অন্তত আটজন নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

নেপালের এক পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ২২টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সীমান্ত এলাকার ভোটেকোশি নদীতে হঠাৎ তীব্র বন্যা দেখা দেয়। পানির প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই বেশ কয়েকটি গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়ে যায়।