কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই দেশজুড়ে তীব্র দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ এবং এল নিনো (El Niño) জলবায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট এই সংকটের কারণে দেশটির ৩৪৪টি পৌরসভায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কলম্বিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দলগুলো এখন একই সাথে ভূমিকম্পের উদ্ধারকাজ এবং দাবানল নিয়ন্ত্রণের এক অভূতপূর্ব বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি।
কলম্বিয়ার জলবিদ্যা, আবহাওয়া ও পরিবেশ গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইডিইএএম) জানিয়েছে, দাবানলের তীব্র ঝুঁকিতে থাকায় ৩৪৪টি পৌরসভায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে এই সতর্কতা জারির হার ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত ‘এল নিনো’ আবহাওয়ার প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। বছরের শেষ নাগাদ তীব্র তাপদাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
শুক্রবার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানায়, তোলিমা, সিজার, নর্তে দে সান্তান্দার, আন্তিওকিয়া, নারিনো এবং সান্তান্দার বিভাগে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপক কর্মী, সেনা সদস্য এবং আকাশপথে সহায়তা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ১১ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনাঞ্চল, ফসল ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১০ আগস্ট আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর থেকেই উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ তৎপর ছিলেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ২৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজার ১৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১২ হাজার ৫০৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ৮০ হাজারেরও বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। Time & Calendars
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত রিসারালদাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দাবানল নিয়ন্ত্রণে দল পাঠানো হলেও পর্যাপ্ত জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় কাউকা বিভাগের পুরাসে আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটির প্রশাসন।