ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করেছে। একইসঙ্গে দেশটির শত শত নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। এরপর ৬.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্পসহ আরও দুটি আফটারশক অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

ভূমিকম্পের সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতালের এক কর্মকর্তা। ৩১ বছর বয়সী লুকাস লোতার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, হঠাৎ করে সবকিছু কাঁপতে শুরু করলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হাসপাতালের রোগীরাও বাইরে বেরিয়ে যান। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি বেশ শক্তিশালী ছিল এবং তিনি কয়েকটি দেয়ালে ফাটল দেখতে পান।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) সুনামি সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি বিভাগের পরিচালক উইজায়ান্তো বলেন, ভূমিকম্পের মডেলিংয়ের ফলাফলে দেখা গেছে, পূর্ব নুসা তেংগারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশে সুনামির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ঘটনায় ০.৫ মিটার থেকে ৩ মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করা হয়।

ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহরের বাসিন্দারা উঁচু এলাকায় সরে যেতে শুরু করেন। সেখানে সমুদ্রের পানি সরে যেতে দেখা গেছে, যা সম্ভাব্য সুনামির আগে দেখা যেতে পারে।

কর্তৃপক্ষ কোনো হতাহতের খবর না দিলেও ১৯ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামির ঢেউ শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রবণতা রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকার ‘রিং অব ফায়ার’-এ দেশটির অবস্থানের কারণে সেখানে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেশি।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, সমুদ্রের নিচে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, দ্বীপ বা অঞ্চলগুলোতে সুনামির কোনো হুমকি নেই।