হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার বিষয়ে ইরানের ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত "সুসংবাদ"। এই জলপথটি কেবল একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার মূল ধমনী। যখনই এই পথে বাধা আসে, তখনই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। তাই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ পর্যন্ত এটি উন্মুক্ত রাখা তেহরানের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক সিগন্যাল হিসেবে দেখা যেতে পারে।

তবে এই "সুসংবাদ" তখনই সার্থকতা পাবে, যখন এটিকে কেন্দ্র করে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সাময়িক যুদ্ধবিরতি অনেক সময় নতুন কোনো সংঘাতের প্রস্তুতির সময় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই আন্তর্জাতিক মহলের বর্তমান লক্ষ্য হওয়া উচিত এই আস্থার পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে আলোচনার টেবিলে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নিশ্চিত করা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যেভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা স্বাগত জানিয়েছে, এখন প্রয়োজন সেই গতি বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি চ্যানেল খোলা রাখতে হবে যাতে ভুল বোঝাবুঝি থেকে পুনরায় সংঘাত না বাধে।

ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ (Blockade) যদি শর্তসাপেক্ষে এবং ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়, তবে তা তেহরানকে স্থায়ী চুক্তির দিকে উৎসাহিত করবে।

মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজে কারিগরি সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইসরায়েলকে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে হবে। লেবাননে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ এই ভঙ্গুর শান্তিকে নষ্ট করতে পারে।

লেবানন সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া এবং যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের জন্য একটি ভালো কৌশল হতে পারে।

ইসরায়েল তার নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বিস্তৃত চুক্তিতে অংশ নিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে তার সীমান্তকে নিরাপদ করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়কেই বুঝতে হবে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হওয়া কেবল পশ্চিমের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। তাই সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে **আর্থিক ও কূটনৈতিক কৌশল** ব্যবহার করে ইরানকে একটি স্থায়ী "নিউক্লিয়ার এবং নিরাপত্তা চুক্তিতে" ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

"শান্তি কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়, এটি একটি সমঝোতা।" হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সেই সমঝোতার প্রথম ধাপ হতে পারে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোর্টে—তারা এই সুযোগটিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করতে পারে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।