মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চান না এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মার্কিন বাহিনী “সামরিকভাবে প্রস্তুত”। আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের (ইসরায়েলসহ) মধ্যে চলমান ১৪ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি আগামীকাল ২২ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টা পুরো বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আজ রাতের মধ্যে কূটনৈতিক কোনো অলৌকিক সমাধান না আসে, তবে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে বড় ধরনের হামলা শুরু হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (ইতিমধ্যেই তা ১০০ ডলারের কাছাকাছি)।

সংঘাত লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পাকিস্তান ও চীনের মতো দেশগুলো যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আহ্বান জানালেও ট্রাম্প প্রশাসন ও তেহরান—উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের সাজে সজ্জিত। ২২ এপ্রিলের পর মধ্যপ্রাচ্য এক অনিশ্চিত ও ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

গত ৮ এপ্রিল ২০২৬-এ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর ফলে গত কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ বিমান হামলা ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এই বিরতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামাবাদে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ অভিযোগ করেছেন যে, ইরান এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি "অসংখ্যবার লঙ্ঘন" করেছে। ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) তিনি জানান যে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, যদি বুধবারের মধ্যে কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারো "বিস্ফোরণ ও বোমাবর্ষণ" (Lots of bombs) শুরু হবে।

অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে "অবিশ্বাস" ও "বদমতলব"-এর অভিযোগ এনেছে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, হুমকির ছায়াতলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। তেহরান দাবি করেছে, তারা রণক্ষেত্রে নতুন কোনো চাল চালার জন্য প্রস্তুত। এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকাকে তারা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

বিশ্বের ২০% তেল সরবরাহকারী এই জলপথটি বর্তমানে প্রায় অবরুদ্ধ। ট্রাম্পের শর্ত অনুযায়ী, এই পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না করলে কোনো স্থায়ী চুক্তি হবে না।

যদিও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাত বিরতিতে ছিল, তবে লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ থামেনি। ইসরায়েল দাবি করছে লেবানন এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।