“আমার ছল ছল আঁখি যতই তোমাকে খোঁজে
শুধু নিরাশার ছবি ভাসে আমার দু’নয়নে
অথচ কোথায় নেই তুমি, সমগ্র সৃষ্টির পর্শে
হেথায় খুঁজি, হোথায় খুঁজি তুমি আছো নিরালোকে
তোমার সৃষ্টিজগতে আমিতো এক বিন্দু শিশির সম
পড়ে আছি তোমার রহস্যময়তার কোনো এক ধুম্রালোকে
তোমার করুণা মমতার সুশীতল ছায়াতলে
আমাকে রেখো প্রভু তোমার রহম নজরে
আমার যাপিত জীবনে যত আছে পাপ-তাপ-শোক
ক্ষমা করে দিও, হে আমার প্রভু, পাপী এই বান্দাকে।”
[‘ফরিয়াদ’, অগ্রন্থিত কবিতা, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭]
মাতামুহুরীসুত কবি, গল্পকার ও নাট্যকার মোহাম্মদ আলী চৌধুরী (১৯৫৭-২০২৫) চকরিয়ার বোদ্ধামহলে একটি আলোচিত নাম। তিনি ছিলেন আশৈশব ধ্যানী ও সৃজনশীল পুরুষ এবং বাংলা সাহিত্যের একজন প্রাজ্ঞ অধ্যাপক। তাঁর সৃজনশীলতাকে লালন করে তিনি চকরিয়ার সাহিত্যাকাশে খ্যাতিমান হয়ে আছেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ চৌকস সাহিত্যকর্মী অভিনয়শিল্পেও পারদর্শী ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ছয়টি। যথাক্রমে ১. আমার গোপন দহন (কাব্যগ্রন্থ) ২. ছোটো ছোটো দীর্ঘশ্বাস (ছোটোগল্প গ্রন্থ) ৩. অলৌকিক উত্তাপ (কাব্যগ্রন্থ) ৪. নতুন প্রভাত (নাট্যগ্রন্থ) ৫. ইন্টারভিউ (নাট্যগ্রন্থ) ৬. গহীনে গোধূলির রঙ (কাব্যগ্রন্থ)। তাছাড়া তিনি ‘ছায়াহীন রৌদ্র আঁখি’ (কাব্যগ্রন্থ), ‘নজরুল মানসে দ্রোহ চেতনা ও অন্যান্য’ (প্রবন্ধগ্রন্থ) এবং ‘পথের শেষ বাঁক’ (গল্পগ্রন্থ) শীর্ষক তিনটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিও রেখে গেছেন। এসব গ্রন্থে তাঁর ব্যাপক সমাজবীক্ষণ ও অন্তর্লীন প্রেমিক সত্তা প্রতিভাত হয়। তাঁর শব্দচয়ন, বাক্য যোজন, ছন্দোবিন্যাস ও চরিত্র সৃজনে অন্যান্য সকল কবি-সাহিত্যিকদের থেকে তাঁকে আলাদা করে চেনা যায়। তাঁর লেখা কবিতা ও গদ্যে একটি অন্তর্লীন প্রাণস্পন্দন বিদ্যমান। তিনি স্বকীয় ও বিচিত্র সৃজন-ব্রতে অন্যদের থেকে আলাদা এক সত্তা।
জ্ঞানের ফেরিওয়ালা, পরোপকারী, অজাতশত্রু ও অত্যন্ত সাদা মনের এ মানুষটি আবালবৃদ্ধবনিতা সবার কাছে সমান প্রিয় ছিলেন। তিনি বন্ধুদের কাছে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু, শিক্ষার্থীদের কাছে একজন আদর্শ শিক্ষক, সংসার জীবনে একজন দূরদর্শী অভিভাবক এবং সাহিত্যাঙ্গনে একজন আলোচিত সাহিত্যিক। অমায়িক ব্যবহার ও নিরহংকার আচরণ ছিল তাঁর একটি বড় গুণ। তাঁর চরিত্র মাধুর্য দিয়ে তিনি অতি সহজেই সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন।
সম্প্রতি চকরিয়ার প্রয়াত এই বিশিষ্ট কবি, গল্পকার, নাট্যকার ও অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর নাগরিক শোকসভা চকরিয়া পৌরসভার সোসাইটি জামে মসজিদ অঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে কবি, গবেষক ও চিন্তক সাদ্দাম হোসেন রচিত “মোহাম্মদ আলী চৌধুরী : জীবন ও সাহিত্যকর্ম” শীর্ষক গ্রন্থের মোড়কও উন্মোচন করা হয়। উক্ত নাগরিক শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন মরহুম কবির অগ্রজ ও বিশিষ্ট পরিসংখ্যানবিদ জনাব লিয়াকত আলী চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান অধ্যাপক, কবি, গল্পকার ও নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক জনাব ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন ফারুক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্রন্থ রচয়িতা কবি সাদ্দাম হোসেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন আল ইয়ামিন মডেল মাদ্রাসার ছাত্র আব্দুল আজিজ। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন দারুল হিকমাহ, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মাওলানা মনসুর আলম।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পেকুয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএমআই)-এর সহকারী অধ্যাপক বিশিষ্ট ছড়াকার, কবি ও লেখক জনাব জামাল সাকিব, পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, কবি, গল্পকার ও সাহিত্য সমালোচক অধ্যাপক মুহম্মদ নিজাম উদ্দিন, লোহাগাড়া মোস্তাফিজুর রহমান কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহফুজুল করিম, কবি বখতিয়ার উদ্দিন, কবি ওয়াহিদ সাত্তার নিশাত, চকরিয়া উম্মাহাতুল মুমেনিন মহিলা মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী তাওহীদুল ইসলাম, পঁহরচাদার বিশিষ্টজন জনাব নুরুল আলম, কবি বিদ্রোহী নিশান, বেতুয়াবাজার মাদ্রাসার শিক্ষক নুরুল আলম, আল ইয়ামীন মডেল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জয়নাল আবেদীন, আলীকদম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজহারুল ইসলাম প্রমুখ। পরিবারের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর ছোট জামাতা আওয়াল হাসান ইশতি এবং তাঁর ভগ্নিপতি ডাক্তার ইউনুস উদ্দিন চৌধুরী উক্ত স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। -
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন