শ্যামল বণিক অঞ্জন
প্রতি সন্ধ্যায়ই রাস্তার মোড়ে বসে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করে সুমন। বয়েল ডিম! এই বয়েল ডিম!! হাঁক তোলে মাতিয়ে রাখে অনেক রাত পর্যন্ত। সুমন ক্লাস সেভেনে পড়ে, লেখাপড়ার ফাঁকে প্রতি সন্ধ্যায় জনবহুল এই রাস্তার মোড়ে বসে সে ডিম বিক্রি করে।
রাজীব সাহেব এই মহল্লারই বাসিন্দা, এই পথ দিয়ে তাই তাঁকে নিয়মিতই আসা যাওয়া করতে হয়। কিন্তু নানান রকম ব্যস্ততা থাকার কারণে হয়তো খুব একটা অন্য কোনদিকে সেভাবে তাকানোর মতো সুযোগ হয় না তাঁর। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় ছেলেকে নিয়ে রাজীব সাহেব হাঁটতে বেরুলে ছেলে নাহিন বায়না ধরলো: বাবা, আমি ডিম খাবো,আমাকে ডিম কিনে দাও।
ছেলের বায়না সইতে না পেরে রাজীব সাহেব ছেলেকে নিয়ে গেলো ডিম কিনতে।
জিজ্ঞেস করলো ডিম কতো করে?
সুমন বললো- কোনডা নিবেন স্যার?
রাজীব সাহেব বললেন- কোনটা কতো?
সুমনঃ মুরগি পনরো ট্যাকা পিছ, হাঁসেরটা বিশ ট্যাকা আর কোয়েলেরডা,,,,,
সুমনের কথা শেষ না হতেই রাজীব সাহেব বললেন- না, কোয়েলেরটা দরকার নেই, মুরগিরটা নেবো। সুমন বললো-কয়ডা দিমু স্যার?
রাজীব সাহেব জবাবে বললেন-দাও দুইটাই দাও, ছুলে ভালো করে ধুইয়ে দিও
ÑÑ ঠিক আছে বলে সুমন ডিম ছোলা আরম্ভ করলো
ÑÑ রাজীব সাহেব জানতে চাইলেন- কাঁচা ডিম তোমরা এখন কতো কিনে আনছো?
সুমন বললো- সামান্য কিছু লাভ করি স্যার।
কষ্ট করে সেদ্ধ করে সময় নিয়ে বেঁচি বুঝেনই তো!
মৃদু হেসে রাজীব সাহেব বললেন- তুমি কেনা দাম বললেও কোন সমস্যা নেই, কারণ তোমার ব্যবসা তুমি তো অবশ্যই করবে। আর সব থেকে বড় কথা হলো তুমি তো সৎপথে রোজগার করছো তাই না?
সুমন বললো-জ্বি স্যার! আমরা আড়ত থিকা কেচ (কেইস) কিনা আনি তাতে তেত্রিশ ট্যাকার
মতো পড়ে।
রাজীব সাহেব বললেন- ১৫ টাকা পিছ হলে হালি হচ্ছে ষাট টাকা, মানে হালিতে সাতাশ টাকা লাভ!
সুমন বললো-না, স্যার কেউ একহালি নিলে পঞ্চাশ ট্যাকা রাখি। বলে ডিম দুটো ছিলে রাজীব সাহেবের হাতে দিয়ে বললো
আফনে দুইডা পঁচিশ টাকাই দেন স্যার।
রাজীব সাহেব হেসে বলেন- রাখ তোমার যেটা ইচ্ছে হয় তাই রাখ। এবার রাজীব সাহেব সুমনকে জিগ্যেস করলেন-তোমার বাসা কোথায়? সুমন বললো-আমার বাড়ি কলাপাড়া ।
পড়াশোনা করো কি- জানতে চাইলেন রাজীব সাহেব। জ্বি স্যার ক্লাস সেভেনে পড়ি বললো সুমন।
রাজীব সাহেব বললেনÑ বাড়িতে কে কে আছে তোমার? সুমন: মা বাবা আর আমরা দুই ভাই
রাজীব সাহেব জানতে চাইলেন-বাবা কি করেন?
সুমন জানালো-বাবা চটপটি বিক্রি করেন আর ছোট ভাই ক্লাস থ্রিতে পড়ে।
রাজীব সাহেব সুমনের কথা শুনে খুশি হলেন, বললেন- ঠিক আছে সুমন ভালো থেকো, খুব ভালো লাগলো তোমার সাথে কথা বলে!
আর হ্যাঁ মন দিয়ে পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাও, দোয়া করি অনেক বড় মানুষ হও, বলে ছেলেকে নিয়ে বাসার দিকে হাঁটা দিলেন রাজীব সাহেব।