ড. ইকবাল কবীর মোহন
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের কাজকে অনেক সহজ, সাবলীল এবং গতিশীল করে তুলেছে। প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে দুনিয়ার অধিকাংশ দেশ বিশেষ করে উন্নত বিশ্ব প্রযুক্তিকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হলেও, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অনেকদূর পিছিয়ে রয়েছে। তারপরও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন এবং উদ্যোগ সাম্প্রতিককালে চোখে পড়ার মতো। এর একটি হলো আর্থিক খাত ও খুচরা কেনাকাটায় বাংলা কিউআর নীতির প্রবর্তন। ক্যাশলেস লেনদেনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির প্রবর্তন নিঃসন্দেহে ডিজিটাল পরিবর্তনের পক্ষে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। বাংলা কিউআর হলো একক কিউআর কোডভিত্তিক একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা, যার মূল লক্ষ্য হলো কাগজের টাকার বা মুদ্রার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সত্যিকারের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ‘এক দেশ, এক কিউআর’ নীতির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ বছরের ১ জুলাই থেকে এই অনন্য সাধারণ এবং ঐতিহাসিক সেবাটি চালু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের সকল মার্চেন্ট পয়েন্টে বিদ্যমান ‘প্রাইয়োরিটি কিউআর’ এর পরিবর্তে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে দেশে একটি সমন্বিত, আন্তঃপরিচালনযেগ্য এবং সমতাভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ব্যাংক এবং বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, যেমন- বিকাশ, নগদ বা রকেট আর্থিক খাত ও খুচরা কেনাকাটায় পৃথক পৃথক কিউআর কোড ব্যবহার করত। বাংলা কিউআর চালু হওয়ার পর গ্রাহক যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ, বিকাশ, নগদ বা যেকোনো পেমেন্টে অ্যাপ ব্যবহার করে একটিমাত্র কোড তথা ‘বাংলা কিউআর’ স্ক্যান করে সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।
বাংলা কিউআরের মূল বৈশিষ্ঠ্য
সর্বজনীন ইন্টারঅপারেবিলিটি : দোকানদারকে কাউন্টারে হরেক রকম কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখতে হয় না। একটি কোড দিয়েই দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটর এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারকে একটি একক নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করেছে।
খরচ খুব কম্র : এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেনাকাটার বিল বা পেমেন্ট করতে ক্রেতা বা সাধারণ গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো চার্জ বা হিডেন ফি দিতে হয় না। প্রথাগত পিওএস কার্ড সোয়াপ মেশিনের মতো এই ব্যবস্থায় দোকানদারদের কোনো দামি যন্ত্র কিনতে হয় না। একটি সাধারণ কাগজের প্রিণ্ট করা স্টিকারই এর জন্য যথেষ্ট।
নিরাপদ লেনদেন : ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ এর মাধ্যমে এই লেনদেনগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে নিষ্পত্তি হওয়ায় এটি অত্যন্ত নিরাপদ।
বাংলা কিউআর-এর ইতিহাস
বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিউআর কোড-এ লেনদেন একটি পরিচিত বিষয়। এটি বাংলাদেশে নতুন অধ্যায় হলেও এই পদ্ধতির ব্যবহার অনেক দেশে আগে থেকেই শুরু হয়েছে। কিউআর কোড ১৯৯৪ সালে প্রথম আবিষ্কার করে জাপানের টয়োটা করপোরেশনের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান ‘ডেনসো ওয়েভ’। তবে কিউআর কোড ব্যবহার করে প্রথম মোবাইল পেমেন্ট বা লেনদেন চালুর ক্ষেত্রে অগ্রগামী দেশগুলোর মধ্যে চীন অন্যতম। চীন ২০১২-২০১৪ সালের দিকে ‘উইচ্যাট পে’ ও ‘আলিপে’ এর মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে কিউআর কোড লেনদেন ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। আমাদের পরিচিত দেশগুলোর মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ‘ইউপিআই’, থাইল্যান্ডের ‘প্রম্পটপে’, মালয়েশিয়ার ‘ডুইটনাউ’, সিঙ্গাপুরের ‘এসজিকিউআর’, নেপালের ‘নেপালপে’ ও ‘ফোনপে’, ইন্দোনিশিয়ার ‘কিউআরআইএস’ আর্থিক খাত ও মোবাইল সেবায় দিগন্তের সূচনা করেছে। বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালু হয় ২০২১ সালে। তবে এই সেবা ‘বাংলার কিউআর’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব বা ব্যক্তিগত কোড সরিয়ে এই জাতীয় বাংলা কিউআর চালু করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই আদেশ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। ফলে ব্যাংক এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ‘বাংলা কিউআর’ সেবা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দ্রতহারে বাড়ছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল বা ক্যাশলেস করা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।
বাংলা কিউআরের এর সুবিধাসমূহ
১. ক্রেতা পর্যায়ে সুবিধা :
ক্রেতার প্লাস্টিক কার্ড বা নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন হয় না।
বাংলা কিউআর-এ অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করে পেমেন্ট করা যায়।
দ্রুত, সহজ ও তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন সম্পন্ন হয়।
প্রতিটি লেনদেনের তাৎক্ষনিক নোটিফিকেশন ও ডিজিটাল রেকর্ড পাওয়া যায়।
২৪ ঘন্টা সাত দিন যেকোনো সময় পেমেন্ট করা যায়।
২. বিক্রেতা পর্যায়ে সুবিধা :
দ্রুত, নিরাপদ ও তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্টে গ্রহণ করা যায়, যা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) গ্রাহকদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করা যায়। ফলে বিক্রি ও গ্রাহকসেবা বৃদ্ধি পায়।
ভাংতি টাকা, জাল ও ছেঁড়া-ফাটা নোট সংক্রান্ত ঝামেলা এড়ানো যায় এবং নগদ অর্থ সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি ও ব্যয় হ্রাস পায়।
বিক্রয়/ লেনদেনের স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত হয়, যা হিসাব-নিকাশ, ব্যবসার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।
ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেনের ইতিহাস তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যৎ-এ ব্যাংক অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণে সহায়ক হয়।
৩. ব্যাংকের সুবিধা :
মার্চেন্টের লেনদেনের অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ায় স্বল্পব্যয়ী (চলতি) আমানত বৃদ্ধি পায় এবং নতুন মার্চেন্ট ও গ্রাহক সংযুক্ত হয়।
ডিজিটাল লেনদেন ও ফি/কমিশনভিত্তিক আয় বৃদ্ধি পায় এবং নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসে।
তুলানমূলক কম খরচে মার্চেন্ট অনবোর্ডিং সম্ভব হয় এবং অপারেশনাল ব্যয় হ্রাস পায়।
লেনদেনের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা, কমপ্লায়েন্স ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়।
ক্যাশলেস বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সহায়তা করে এবং ব্যাংকের ব্রান্ড ইমেজ ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করে।
বাংলা কিউআরের চ্যালেঞ্জসমূহ
বাংলা কিউআর কোড প্রচলন লেনদেনকে সহজ ও দ্রততর করলেও এর কতগুলো চ্যালেঞ্জ বা অসুবিধা রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ,
ব্যবসায়িক ফি বা এমডিআর: প্রতিটি লেনদেনে ব্যবসায়ীকে ১ থেকে ১.১৫ শতাংশ পর্যন্ত ফি দিতে হয়। এই মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা ফি ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে, যা অনেক সময় তারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
অপব্যবহার ও ক্যাশ-আউট বিকল্প : কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সিস্টেম অপব্যবহার করে সাধারণ লেনদেনের পরিবর্তে ক্যাশ টাকা তোলার বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ভুয়া লেনদেন ও তদারকির ঝুঁকি বাড়ছে।
সচেতনতা ও শিক্ষার অভাব : ছোট দোকানদার অনেক সময় কিউআর কোড ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেন না। গ্রাহকদেরও অনেকের এই সেবার ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেই।
কারিগরি ও নেটওয়ার্ক সমস্যা : ব্যাংক ও বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাপের আন্তঃসংযোগ বা ইন্টারঅপারেবিলিটিতে মাঝেমধ্যে ধীরগতি দেখা যায়। ডিজিটাল অবাকাঠামোর দুর্বলতাও একটি বড় বাধা বলে অনেকের ধারণা।
বাংলা কিউআর-এর ব্যবহার ও সফলতা
সামান্য কিছু চ্যালেঞ্জ ও ক্রটিবিচ্যুতি সত্ত্বেও বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশজুড়ে ইতোমধ্যে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মুদি দোকান, রেস্তোরা ও শপিং মল এই একক নেটওয়ার্কের আওতায় অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলা কিউআরে লেনদেন ১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক করার আগে বিগত জানুয়ারি মাসে এই সেবা খাতে লেনদেন হয়েছিল ২১২ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১৮ কোটি টাকায়। মার্চে ২২৯ কোটি টাকা, এপ্রিলে লেনদেন হয় ১৯৯ কোটি টাকা, মে মাসে লেনদেন হয় ৪৭৯ কোটি টাকা এবং জুনে লেনদেন হয় ৮৪৪ কোটি টাকা। ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআরে লেনদেন বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নের জন্য জুন মাস থেকেই বড় প্রচারণা শুরু হওয়ায় লেনদেনে এই বড় বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়। জুলাই মাসে লেনদেন বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়। উল্লেখ্য, ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফএস) নিজস্ব কিউআর কোডগুলোকে বাংলা কিউআরে রূপান্তর করার কারণে প্রায় ১৭ লাখ বাংলা কিউআর দিয়ে উদ্যোগটি শুরু হয় এবং একক কিউআরে লেনদেন বেড়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তথ্য বলছে, জুলাই মাসের শুরুতে দৈনিক ১ লাখ ৭৮ হাজার বাংলা কিউআর লেনদেন হয়েছে। সেটি বেড়ে পরের সপ্তাহে হয়েছে ৩ লাখ ৩ হাজার। একই সময়ে লেনদেনের আর্থিক পরিমাণও প্রায় তিনগুণ বেড়ে দৈনিক গড়ে ১১০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। এদিকে আরেক তথ্য মতে, জুলাইয়ের শুরুতে এই ব্যবস্থার আওতায় মার্চেন্টের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ।
বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ। আগামী দিনগুলোতে বাংলা কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা আরো সম্প্রসারিত হবে-এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কারণ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলোও কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করার নানা উদ্যোগ
উল্লেখ্য, বাংলা কিউআর বর্তমানে মূলত দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক লেনদেনের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে অর্থ স্থানান্তরেও এই পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড থাকবে। এই কিউআর কোড স্ক্যান করে নিজের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে দ্রুত টাকা পাঠানো যাবে। এর ফলে ব্যাংক থেকে ব্যাংক, এমএফএস থেকে এমএফএস এবং ব্যাংক থেকে এমএফএস অ্যাকাউন্টে সহজে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তথ্যবিরণীতে বলা হয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন আরও বাড়াতে বাংলা কিউআরকে সহজ ও জনবান্ধব করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এভাবে বাংলা কিউআরভিত্তিক এই অ্যাপ ও প্লাটফর্মের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (পিএসও) এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে ক্যাশলেস লেনদেন হবে জনপ্রিয় ও ব্যাপক।
এদিকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে।
এই প্রণোদনা ১ অক্টোবর থেকে চালু হলে সেবা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কমবে। প্রভাব পড়তে পারে ক্ষুদ্র বিক্রেতার পরিশোধিত মাশুলেও। তবে প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বেশি প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো বড় লেনদেনকে ভেঙে একাধিক ছোট লেনদেনে রূপান্তর করতে পারবে না। এ ছাড়া যেসব লেনদেন ব্যর্থ, ফেরত, চার্জব্যাক কিংবা বিরোধপূর্ণ হবে, সেগুলোর বিপরীতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হবে না।
উপসংহার
বাংলা কিউআর বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্যাশলেস বা নগদ টাকাবিহীন করার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। এটি ছোট-বড় সব ধনের ব্যবসায়ীকে একটি সমান প্লাটফর্মে এনে দাঁড় করিয়েছে। ফলে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও মসৃণ ও সহজতর হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বাংলা কিউআর সম্পর্কে আশাব্যঞ্জক কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে সব ধরনের পেমেন্ট করা হচ্ছে কিউআর কোডে। এই ব্যবস্থার ফলে আপনার টাকা কোথায় রাখবেন, দোকান থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারী ধরল কিনা এসব চিন্তা থাকবে না।’
বাংলা কিউআরের সাফল্য ও বাস্তবতা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেছেন, ‘দুর্নীতি দূর করতে চাইলে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের লেনদেন বৃদ্ধির ফলে গ্রাহক ও প্রাপক –উভয়েই স্বস্তি পাবেন।
এতে সরকারেরও রাজস্ব আয় বাড়বে। বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে অন্য দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না, যাতে এই সেবাটি বাধাগ্রস্ত হয়।’