সকালের তাড়াঘেড়োয় পকেটে হাত দিয়ে বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠলো জহির সাহেবের। পকেট গায়েব! অর্থাৎ মানিব্যাগটা বাসাতেই ফেলে এসেছেন। রিকশা থেকে নেমে চালকের দিকে তাকিয়ে জহির সাহেবের কপালে তখন দুশ্চিন্তার ঘাম।
“মামা, মানিব্যাগ তো ঘরে ফেলে আসছি... মোবাইলে পেমেন্ট নিয়েন?”
রিকশাচালক হেসেই পকেটের পাশ থেকে ঝুলানো একটা প্লাস্টিকের কার্ড বের করে বললেন, “স্যার, টেনশন নিয়েন না! এই যে বাংলা কিউআর। বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংকের অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান মারেন, ভাড়াও হবো, বোনাসও পাইতে পারেন!”
জহির সাহেব হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। মোবাইল বের করে এক সেকেন্ডে কিউআর কোড স্ক্যান করতেই কেল্লাফতে!
একসময় পকেটে মানিব্যাগ না থাকা মানেই ছিল মহাবিপদ। আর মানিব্যাগ থাকলেও কি শান্তি ছিল? তার ভেতরেও চলতো নানা যন্ত্রণা—
* ছেঁড়া-ফাটা নোটের বিড়ম্বনা: কন্ডাক্টর ১০০ টাকার নোট দেখে বলবে, “কন্ট্রোলারের কড়া নির্দেশ, কসটেপ মারা নোট নেওয়া যাইবো না!”
* ভাঙতি টাকার ক্যাচাল: “পাঁচ টাকা ভাঙতি নাই মামা, একটা লজেন্স নিয়া যান!”
* মোটা মানিব্যাগের ভীতি: পকেটে টাকা কম, কিন্তু পুরানো রসিদ, ভিজিটিং কার্ড আর ছেঁড়া কুপন জমে মানিব্যাগ এত মোটা হয়ে থাকতো যে পকেটমারদের প্রথম নজর পড়তো সেটির ওপরই।
কিন্তু যুগের হাওয়ায় দৃশ্যপট বদলে গেছে। এখন মানিব্যাগের সেই একচ্ছত্র রাজত্বে থাবা বসিয়েছে ছোট্ট স্মার্টফোনটি। চায়ের টং দোকান থেকে শুরু করে কাঁচাবাজার, কিংবা সুপারশপ—সবখানেই ঝুলছে একটি করে ‘কিউআর কোড’। ক্যাশ টাকা গণনার ঝুটঝামেলা নাই, নাই খুচরা ফেরত পাওয়ার চিন্তা।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আজকাল পকেটে ক্যাশ টাকা না থাকলে কেউ নিজেকে নিঃস্ব ভাবে না, কিন্তু ফোনের চার্জ বা ইন্টারনেট ডাটা ফুরিয়ে গেলে রীতিমতো ‘লাইফ সাপোর্ট’-এ চলে যায়!
প্রযুক্তির এই কিউআর জামানায় ছেঁড়া নোট গছিয়ে দেওয়ার দিন শেষ, মানিব্যাগ হারানোর ভয়ও উধাও। কারণ দেশ এখন বলছে— “পকেটে টাকা না থাকলে দুঃখ নাই, শুধু হাত বাড়িয়ে কিউআর স্ক্যান করো আর হেসে বাড়ি যাও!”
সংগ্রাম ডেস্ক