তুলনামুলক নতুন দল নিয়ে এবার বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। কিউইদের এই সিরিজের স্কোয়াডে আছে বেশ কিছু নতুন মুখ। একাধিক তারকা ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে তরুণদের জন্য এটাকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন টম লাথাম। আইপিএলে ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশ সফরে আসেননি নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, অভিজ্ঞ গ্লেন ফিলিপস, ডেভন কনওয়ে, ফিন অ্যালেনের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। লাথাম মনে করেন, এই সিরিজ থেকে শেখার সুযোগ পাবে তরুণ ক্রিকেটাররা। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, ‘কিছুটা অনভিজ্ঞ দল নিয়ে এখানে এসেছি তবে এর ফলে অনেকে ছেলে সুযোগ পাচ্ছে, যারা আগে হয়ত সেভাবে সুযোগ পায়নি। এখানে ভিন্ন কন্ডিশনে সবার সামনেই দারুণ সুযোগ। বাংলাদেশে খেলা, উপমহাদেশে খেলার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই তারা সামনের দিনে এগিয়ে যাবে। এখান থেকে যত বেশি অভিজ্ঞতা নেয়া যায়, চেষ্টা থাকবে ভিন্ন ভিন্ন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়ে দেখার, এর ফলে সামনের দিনে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে (ক্রিকেটারদের) ভালো গভীরতা তৈরি হবে।’ লাথাম আরও বলেছেন, ‘আমরা এখানে সিরিজ জিততেই এসেছি। সবার মূল লক্ষ্য এটাই। এই পয়েন্টেই সবাই যেতে চাই। প্রতিটি ম্যাচেই আপনাকে শিখতে হবে যেন সিরিজের শেষ ভাগে গিয়ে নিজেদের ভালো সুযোগ দিতে পারি। আমি মনে করি এখানে কিছুটা কম অভিজ্ঞ প্লেয়ার রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা তাদের জন্য ভালো সুযোগ হবে। আমার দায়িত্ব হচ্ছে সবার মাঝে এই কন্ডিশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। সামনে যা আছে সেই পরিস্থিতি বুঝে সেভাবেই আমাদের খেলতে হবে।’ এমন দল সামলানো কঠিন কি? ল্যাথামের জবাব, ‘একদমই কঠিন না। এখানে নিউজিল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করার আরও একটি সুযোগ পেলাম। প্রতিটি সুযোগই দারুণ রোমাঞ্চকর। অনেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে খেলছে। এভাবেই ক্রিকেট এখন আগাচ্ছে। অনেক লিগ হচ্ছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক সিরিজের সাথে ক্ল্যাশও করছে। ফলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্লেয়ার খেলাতে চাচ্ছি, যেন তারা দায়িত্ব নিতে শেখে।’ অনেকেই বলছেন, টম ল্যাথামের নেতৃত্বে যে দলটি বাংলাদেশে এসেছে, ঘরের মাঠে সেই দলটিকে সহজেই হারানো উচিত বাংলাদেশের। কারণ, এই দলের ২/৩ জন ক্রিকেটার ছাড়া সে অর্থে তারকা ক্রিকেটারদের অধিকাংশই বর্তমান কিউই ওয়ানডে দলে নেই। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে স্কোয়াডে যারা ১৫ জনের মধ্যে ছিলেন, এই দলের কেউই সেখানে ছিলেন না।
একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলছেন নিউজিল্যান্ডের অর্ধশতাধিক ক্রিকেটার। এ কারণে বিষয়টিকে দেশের ক্রিকেট কাঠামোর জন্য বড় ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন নিউজিল্যান্ড দলের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার। এ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের হেড কোচ ওয়াল্টার বলেন, ‘আমরা যদি পুরো দলটাকে শ্রীলঙ্কায় পাঠাতাম এবং পরে তাদের এখানে নিয়ে আসতাম, তাহলে শ্রীলঙ্কায় আরও ১২ জন ক্রিকেটারকে তাদের দক্ষতা উন্নত করার সুযোগ দেয়ার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যেত। আমরা যতটা সম্ভব আমাদের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। শোনা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়- আইপিএল, পিএসএল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় মোট ৫৪ জন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার খেলছে। এটা আমাদের দেশের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের প্রায় অর্ধেক। তাই আমাদের জন্য এটা বিশাল ইতিবাচক বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক ক্রিকেটারকে বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে শুধু একটি ছোট গ্রুপ নয় বরং পুরো ব্যবস্থাটাই শক্তিশালী হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যে কঠিন, সেটা আমরা জানি, কারণ অনেক সময় ক্রিকেটারদের বিভিন্ন জায়গায় খেলতে যেতে হয়। তাই আমাদের সেটা সামলাতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা যেই দলের বিপক্ষেই খেলি না কেন, আমাদের কাছে এমন বেশ কিছু ক্রিকেটার থাকবে যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত। তাই যে সুযোগ ও সফরগুলো পাচ্ছি, সেগুলোকে যতটা সম্ভব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগাতে চাই।’ বাংলাদেশ সফরে আসা নিউজিল্যান্ড দলে এমন কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন যারা গত বছর মে মাসে ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তাদের মধ্যে আছেন আদিত্য অশোক, বেন লিস্টার, ডিন ফক্সক্রফট, জেডেন লেনক্স, জশ ক্লার্কসন, মোহাম্মদ আব্বাস এবং নিক কেলি। এ ছাড়া বাংলাদেশে আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে উইল ইয়াং ও হেনরি নিকোলসেরও। ওয়াল্টার বলেন, ‘এই দলে এমন কয়েকজন ক্রিকেটার আছে যারা আগে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ সিরিজ খেলতে এখানে এসেছিল। মিরপুরে যে ম্যাচটি হয়েছিল সেটি ছিল চার দিনের ম্যাচ, তবে এর আগে এই কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা অবশ্যই ভালো। সিরিজটি হয়েছিল মে মাসে, তাই সময়টাও প্রায় একই ধরনের। বাংলাদেশে আগে খেলার এমন অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানে থাকতে সাহায্য করে।’ এই দলের অধিনায়ক টম ল্যাথাম অবশ্য আগেও বাংলাদেশে খেলেছেন। এর বাইরে আরও জনা তিনেক ক্রিকেটারের কিউই ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা আছে। সব মিলিয়ে কিউই দলটির বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজের বাংলাদেশ দলটি তুলনামূলক বেশি অভিজ্ঞ।