বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে আজ। সকাল ১১টায় মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে টাইগারদের সামনে এখন প্রত্যেকটা সিরিজই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে মিরাজ সিরিজ নয় এগোতে চান ম্যাচ বাই ম্যাচ। গতকাল সিরিজ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সেখানে এই সিরিজের লক্ষ্য নিয়ে বলেন, ‘শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং টার্গেটটা ওভাবে সেট করা উচিত না। যেহেতু আমাদের তিনটা ম্যাচ আছে, সিরিজ বিবেচনায় আমাদের প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচটা ভালো ক্রিকেট খেলে জিততে চেষ্টা করব।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে মিরাজ বলেন, 'গত দুইটা সিরিজ আমরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি এবং প্রক্রিয়া ভালো ছিল এবং প্লেয়াররাও অনেক আত্মবিশ্বাসী। আর আমার কাছে মনে হয় যে এই সিরিজটা আছে আর সামনে যে সিরিজগুলো আছে প্রত্যেকটা প্লেয়ারই আলাদাভাবে দুর্বলতার জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করেছে।' আমাদের পেস বোলাররা খুবই ভালো করছে গত কয়েক বছর ধরে এবং ধারাবাহিকভাবে খুব ভালো পারফরম্যান্স করছে। আর আমাদের খুব ভালো পেস বোলারও আছে এবং আমাদের যদি ঐরকম সিচুয়েশন আসে অবশ্যই আমরা সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।' নিউজিল্যান্ডের এই দলে নিয়মিত একাদশের অনেকেই নেই। তবে মিরাজ নিউজিল্যান্ডকে ছোট করে দেখছেন না, ‘নিউজিল্যান্ড দলকে ছোট করে দেখার কোনো কিছুই নেই। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের প্রত্যেকটা ম্যাচে আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা চেষ্টা করব সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব আমাদের পক্ষে রেজাল্ট আনতে। আমরা যদি সিরিজ জিততে পারি এটা আমাদের জন্য অনেক একটা বড় অর্জন হবে। যেহেতু আমাদের র‌্যাংকিংয়ের একটা বিষয় আছে আর আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজটা।’ গত বছর ওয়ানডে ফরম্যাটের অধিনায়কের দায়িত্ব পান মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর দুটি সিরিজও জিতেছেন। এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তার নেতৃত্বে মাঠে নামতে যাচ্ছে টাইগাররা। সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। মিরাজ বলেন, ‘২০২৭ সালের বিশ্বকাপ অবশ্যই একটা প্রসেসের ব্যাপার এবং লম্বা সময়ের ব্যাপার। সেই পর্যন্ত যেতে গেলে প্রসেসটা মেইনটেইন করতে হবে এবং সিরিজগুলোতে ভালো খেলতে হবে। শেষ দুইটা সিরিজে আমরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি এবং প্রসেসটা ভালো ছিল এবং প্লেয়াররাও অনেক আত্মবিশ্বাসী। লং টাইমের জন্য একজন অধিনায়ক যদি থাকে একটা টিমকে খুব ভালোভাবে গড়তে পারে।' 'অল্প সময়ের জন্য কাউকেই দায়িত্ব না দেয়া হোক। সেক্ষেত্রে তার জন্য দল গড়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এটা একটা পজিটিভ দিক (লম্বা সময় অধিনায়কত্ব পাওয়া), আমি খুব ভালো ভাবে পরিকল্পনা করতে পারব প্রত্যেকটা সিরিজ।

কোন কন্ডিশনে আমরা খেলব এবং প্লেয়াররাও একটা মানসিকভাবে স্বাধীন থাকবে যে আসলে আমরা কার অধীনে খেলব।’ পরে কিউই দলকে নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড দলকে ছোট করে দেখার কোনো কিছুই নেই। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের প্রত্যেকটা ম্যাচে আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা চেষ্টা করব সর্বোচ্চ দিয়ে। চেষ্টা করব আমাদের পক্ষে রেজাল্ট আনতে। আমরা যদি সিরিজ জিততে পারি এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন হবে। যেহেতু আমাদের র‌্যাংকিংয়ের একটা বিষয় আছে আর আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজটা।’ বিশ্বকাপে আতœবিশ্বাস নিয়েই যেতে চান মিরাজ, 'বিগত দিনে এর আগে অনেকবার এরকম হয়েছে। ২৩ বিশ্বকাপের আগে কিন্তু আমরা অনেক ম্যাচ জিতেছিলাম, আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কিন্তু বিশ্বকাপে যেয়ে আমরা ভালো করতে পারিনি। তাই আমার কাছে মনে হয় আত্মবিশ্বাসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।' গত দেড় বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এসেছে তিনজন। গত ৬ মাস ধরে বোর্ডে একপ্রকার অস্থিরতা বজায় ছিল। তবে মিরাজের দাবি বোর্ডে যাই হোক ক্রিকেটারদের উপর তার কোনো প্রভাব পড়ে না। মিরাজ বলেন, ‘শেষ তিন সপ্তাহ আমরা খুবই ভালো প্র্যাকটিস করেছি এবং পেশাদার প্লেয়ার হিসেবে আসলে বাইরে কী হয় এটা আমাদের উপর প্রভাব ফেলে না। কারণ আমাদের কাজ হলো পারফর্ম করা এবং আমার কাছে মনে হয় যে শেষ তিন সপ্তাহ যেভাবে প্র্যাকটিস হয়েছে বাইরে কী হয়েছে এটা আমরা কখনোই চিন্তা করিনি।’ গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। এরপর ঘরোয়া লিগে নিয়মিত খেলছেন পাশাপাশি দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে খেলে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের চাওয়ায় আবারো ওয়ানডে দলে ফিরতে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম।

জবাবে মিরাজ বলেন, 'মুশফিক ভাইয়ের ব্যাপারটা যেটা, অবশ্যই এরকম একটা প্লেয়ার টিমে থাকলে ক্যাপ্টেনের জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। আর যেটা বললেন যে অবশ্যই যেহেতু তিনি অবসরে গিয়েছেন এবং আমার কাছে মনে হয় ফিটনেস অনুযায়ী যদি দেখেন তিনি অবশ্যই আরও কিছুদিন খেলতে পারতেন। কিন্তু যেহেতু তিনি অবসরে গিয়েছেন, অবশ্যই তার এই অবসরকে আমি সম্মান করি।' পরে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে মিরাজ বলেন, 'সাকিব ভাইয়ের ইস্যুটা যেটা বললেন আপনি, এটা আসলে পেশাদার প্লেয়ার হিসেবে আমাদের ড্রেসিংরুমে ঐরকম প্রভাব ফেলে না।